ওড়িশা ম্যাচের আগে ধাক্কা খেল ইস্টবেঙ্গল। মাত্র এক ম্যাচ শাস্তি কমানো হল মিগুয়েলের। অর্থাৎ আগামী দু’টি ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। ওড়িশার পাশাপাশি তাঁকে পাওয়া যাবে না মুম্বই সিটি ম্যাচেও। আইএসএলে দু’টি ম্যাচই ইস্টবেঙ্গলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবু হাতে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের নিয়েই লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখছেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো।
বেঙ্গালুরু ম্যাচে লাল কার্ড দেখা মিগুয়েলকে পরে তিন ম্যাচ নির্বাসিত করেছিল ফেডারেশন। শনিবার আপিল কমিটির শুনানি শেষে তাঁর নির্বাসন মাত্র একটি ম্যাচ কমানো হয়েছে। সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের আরও একটি চিন্তা হল মহম্মদ রশিদ এবং আনোয়ার আলির চোট। ওড়িশাকে হারাতে পারলে ইস্টবেঙ্গল পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে আসবে। তবে দলের এতজন ফুটবলার ছাড়া কী করে সেই কাজ সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রবিবার গোয়া যাওয়ার আগে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন অস্কার। তখনও মিগুয়েলের শাস্তির খবর আসেনি। অস্কার বলেন, “আগেও যা বলেছি, এখনও তাই বলব। মিগুয়েলের নির্বাসনের শাস্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। কারণ মিগুয়েলকে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল। এটা ঠিক নয়। শুনানিতে ব্যাখ্যা আমরা দিয়েছি। মনে করে দেখুন, বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসিও এমন প্ররোচনার শিকার হয়েছিল। মাঠে মেসির আচরণ সকলের নজর কেড়েছিল। তবু ফিফা মেসিকে কোনও শাস্তি দেয়নি। তা হলে মিগুয়েলের ক্ষেত্রে ফেডারেশন কেন সব দিক খতিয়ে দেখে নির্বাসন কমাবে না? লম্বা লিগে তিন ম্যাচ নির্বাসন হলে তবু মানতাম। কিন্তু ১৩ ম্যাচের লিগে তিন ম্যাচ নির্বাসনটা মানা যায় না।” পরে জানা যায় মিগুয়েলের শাস্তির খবর। ফলে তিনি দলের সঙ্গে গোয়া যাচ্ছেন না। তবে মুম্বই সিটি ম্যাচে খেলানোর চেষ্টা চলছে। আবার ইস্টবেঙ্গল ফেডারেশনে আবেদন করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।
ওড়িশার বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচ হলেও বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা গোয়ায় গিয়ে খেলতে হবে। তাতে কোনও অভিযোগ নেই কোচ অস্কারের। বরং চিন্তা রেফারিং নিয়ে। বলেছেন, “এ বার আইএসএল শুরু হওয়া নিয়েই চিন্তা ছিল। শুরু থেকেই সূচিতে হোম ও অ্যাওয়ে ম্যাচের সংখ্যার দিক থেকে সব দল সমান সুবিধা পায়নি। তা নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই ঠিকই। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচে মিগুয়েল ও রেফারির বিভিন্ন রকম সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের ভুগতে হয়েছে। এটা ঠিক নয়। আমারও চিন্তা এটাই। আশা করি এর পর থেকে এমন কিছু হবে না। আমার মনে হয়, কোনও ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক না হলে তাঁকে দিয়ে আর আইএসএলের ম্যাচ খেলানো উচিত নয়।”
এই মুহূর্তে ওড়িশা ৮ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ১৩ নম্বরে আছে। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতা কি খুব কঠিন? লাল-হলুদ কোচের জবাব, “ওড়িশা যতই লিগ টেবিলের নীচের দিকে থাকুক, ওদের হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। ওড়িশায় একজন বিদেশি থাকলেও প্রতি ম্যাচে লড়াই করছে। শেষ ম্যাচেও লড়াই করে হেরেছে কেরলের কাছে। তা ছাড়া আমরা নানা কারণে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছি। পচা শামুকেও মাঝেমধ্যে পা কাটে। তাই মনোযোগ ঠিক রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, যুবভারতী নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে যাচ্ছে রবিবার থেকে। ফলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে প্র্যাকটিস মাঠ পাওয়াই সমস্যায় হয়ে গিয়েছিল। তাই রবিবারই দল নিয়ে গোয়া যাচ্ছেন লাল-হলুদ কোচ। এতে বাড়তি অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি নতুন পরিবেশ, মাঠ, গোয়ার গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন ফুটবলারেরা।