• গড়িয়ার ফ্ল্যাটে উদ্ধার মহিলার দেহ, পাশের ঘরে ঘুমিয়ে অসুস্থ পুত্র, পলাতক অধ্যাপক স্বামী! খুনের অভিযোগ
    আনন্দবাজার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • একটি ঘরে অসুস্থ ছেলে তখনও ঘুমিয়ে। আর একটি ঘর থেকে উদ্ধার মায়ের নিথর দেহ। স্ত্রীকে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অধ্যাপক স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার এ নিয়ে চাঞ্চল্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, গড়িয়া রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি আবাসনের দ্বিতলে সপরিবারে বসবাস করতেন সৌমিক দাস। প্রতিবেশীদের দাবি, প্রায় চার বছর ধরে ওই আবাসনে বসবাস করলেও তাঁদের সঙ্গে অধ্যাপক দম্পতির তেমন কথাবার্তা হত না।

    রবিবার সকালে পরিচারিকা রিঙ্কু অধিকারী অধ্যাপকের ফ্ল্যাটে গিয়ে বার বার ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি। তিনি জানান, তার আগের দিন রাত ৮টা নাগাদ ফোন করেছিলেন। ফোন তোলেননি কেউ। সকালে আবার এক দফা ফোন করেছেন। কিন্তু ফোন তোলেননি অধ্যাপকের স্ত্রী এনাক্ষী দাস। তিনি এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে মূল গেটের চাবি নিয়ে উপরে উঠে দরজায় টোকা দেন। পরে দরজা ঠেলতেই তা খুলে যায়।

    পরিচারিকার দাবি, তিনি ভিতরে ঢুকে তিনি দেখেন, একটি ঘরে তখনও সৌমিক-এনাক্ষীর আট বছরের পুত্র ঘুমিয়ে আছে। অন্য ঘরে বিছানায় শুয়ে ছিলে এনাক্ষী। মশারিও টাঙানো ছিল। তবে সৌমিককে কোথাও দেখতে পাননি। বেশ কয়েক বার ডাকাডাকি করে এনাক্ষীর সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন তিনি। প্রতিবেশীরা নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে এনাক্ষীর নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

    পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতার বাবা-মা থাকেন কিছুটা দূরে। তাঁদের খবর দেওয়া হয়। দেহ উদ্ধার করে সোনারপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা মৃত্যু নিশ্চিত করার পরে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে মৃত্যু হল, তা রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃতার বাবা-মায়ের অভিযোগ খুন করা হয়েছে তাঁদের মেয়েকে। মৃতার পলাতক স্বামীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)