• সংসদীয় রাজনীতিতে জ্যোতি বসু, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে চারু মজুমদারকে পছন্দ: বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়
    আনন্দবাজার | ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
    বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়: এমন একজন মানুষকে চাই যিনি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের মধ্য দিয়ে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, এমন নয়। তিনি যেন মানুষ হিসাবেও এমন হন, যাঁর রাজ্যের বিভিন্ন সংস্কৃতি, গোষ্ঠী, জাতি-উপজাতি এই সব কিছু সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান, ধারণা এবং অনুভূতি আছে। এবং অবশ্যই তাঁকে গণতান্ত্রিক হতে হবে।

    ২. দল দেখে ভোট দেন, না কি প্রার্থী দেখে?
    বিপ্লব: আদর্শ দেখে।

    ৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
    বিপ্লব: যিনি প্রার্থী হবেন তাঁর দেশ, সমাজ, ইতিহাস, অর্থনীতি, দেশের মানুষ সম্পর্কে তো জানা উচিত। কারণ, তিনি তো দেশ ও মানুষের জন্যই কাজ করবেন।

    ৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
    বিপ্লব: বিধায়ক হওয়া ব্যাপারটা আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। ঘুম ভেঙে যাবে।

    ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
    বিপ্লব: মনে হয় না। কারণ নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা-অভিযোগ সামগ্রিক ভাবে মানুষের জীবনের সমস্যার তুলনায় অনেক ছোট। হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্মীয় মেরুকরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ, সামাজিক বর্ণবাদ উচ্ছেদ করা অনেক বেশি জরুরি। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বস্ত্র জরুরি। তার পরে আসে বিনোদন।

    ৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
    বিপ্লব: মানুষের প্রতিরোধ চাই। মানুষ যদি সচেতন না হয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে, তা হলে কোনও কিছুরই পরিবর্তন হওয়া সম্ভব নয়।

    ৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
    বিপ্লব: সামগ্রিক ভাবে যে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে, তারই ছায়া পড়েছে রাজনীতিতে। ব্যবস্থা নেবে কে? দল বদল করছেন যে নেতা, তিনি তো নীতি বিসর্জন দিচ্ছেন। অথচ সেটা বৈধতা পেয়ে যাচ্ছে। মানুষ যদি ওই দল বদলকারীকে বলতে পারত যে, আপনি অনৈতিক কাজ করেছেন, আপনাকে ভোট দেব না, তা হলে এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মাথাচাড়া দিতে পারত না।

    ৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
    বিপ্লব: এটাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সামাজিক ক্ষেত্রে বাস-ট্রামে, স্কুল-কলেজে, গলি-রাস্তায় মানুষের ভাষার সংযমহীনতা যে রকম ভাবে বেড়েছে, তারই একটা বহিঃপ্রকাশ রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে। এটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    ৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    বিপ্লব: ভারতীয় নাটক বলতে যেমন কেবল মাত্র সংস্কৃত নাটক নয়, তেমনই ভারতীয় নাটক বলতে মরাঠি বা হিন্দি নাটকও নয়। ভারতের সংস্কৃতিও তাই। নানা প্রদেশের নানা সংস্কৃতি মিলিয়েই দেশের সংস্কৃতি। আর উন্নয়নই বা কত দিন ধরে হবে! এর শেষ কোথায়! আর সমান অধিকার বা সাম্যবাদ এত জটিল একটা প্রক্রিয়া, এর জন্য বহু কর্মকাণ্ড ঘটাতে হয়, যার প্রেক্ষিতে সাম্যবাদ আসে। ভোটের মধ্য দিয়ে সাম্যবাদ আসতে পারে না।

    ১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
    বিপ্লব: বুঝতে হবে সামাজিক অসাম্য আছে বলেই, প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি বলেই ভোট টানতে ভাতা দিতে হয়। খুবই দুঃখজনক, কিন্তু এটা প্রয়োজনীয়ও। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। যাঁরা এটা নিয়ে বিদ্রুপ করেন তাঁরা উন্নততর অর্থনৈতিক অবস্থায় আছেন বলে এর গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। কিন্তু তাঁরা যখন ডিএ আন্দোলন করেন, তখন তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে যেতে হয়। ওটাও কিন্তু একরকম ভাতা-ই। ডিএ বৃদ্ধির ভাতা-টা তাঁরা সাংবিধানিক অধিকার বলেন।

    ১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
    বিপ্লব: কখনওই না। সরকারপক্ষ এবং বিরোধীপক্ষ থাকলে তবেই তো সেটা গণতান্ত্রিক কাঠামো। না হলে তো একনায়কতন্ত্র! তবে গণতন্ত্র এমন জায়গায় চলে গিয়েছে যে ওই প্রবণতাটাই এখন বাড়ছে ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর।

    ১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
    বিপ্লব: বটেই তো। না হলে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন! ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে এতে সাফল্যও এসেছে। মানুষ হয়তো এদের দেখে ভাবেন, আরে, ইনি যেমন রুপোলি পর্দায় অনেক কিছু পাল্টে দিয়েছিলেন, ভিলেনকে পিটিয়েছিলেন, বাস্তবেও বোধহয় তেমন কিছু হবে, আর সব কিছু বদলে যাবে। এ এক মস্ত বিভ্রম।

    ১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
    বিপ্লব: সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় জ্যোতি বসু। আর সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের ক্ষেত্রে চারু মজুমদার।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)