বৈশাখের শুরু থেকেই সূর্যের তেজ ত্বক পুড়িয়ে দিচ্ছে। এই গরমে স্কুলে আসতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়ছে প্রাথমিকের পড়ুয়ারা। তাদের কথা মাথায় রেখে এই সময়টায় সকালে স্কুল চালু করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের জেরেই তা থমকে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি প্রলয় নায়েক বলেন, ‘‘প্রাথমিক স্কুলগুলি সকালে খোলার আর্জি নিয়ে বোর্ডকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে অনুমতি মেলেনি।’’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ তারিখ প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। সেই তালিকায় ছিল বীরভূমও। আবার ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার নির্বাচন রাজ্যের বাকি অংশে। যেহেতু প্রতিটি জেলায় বুথগুলি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সহ স্কুলেই হয়ে থাকে, সে জন্য দিন দুই-তিনেকের জন্য স্কুলগুলি নিতে হয় কমিশন ও প্রশাসনকে। ফলে রাজ্যের একাংশে ভোট হয়ে গেলেও বাকি অংশে যতক্ষণ না ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ সামগ্রিক ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। কারণ সকালে স্কুল হলে দুপুরের দিকে স্কুল খোলা পেতে সমস্যা হয়।
জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, প্রথম দফার নির্বাচনের জন্য যেহেতু স্কুলগুলি বুথ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, সে জন্য দিন তিনেক ছুটি ছিল। ভোটের কাজে ব্যস্ত ছিলেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশ। শনিবার থেকে ফের স্কুল খুলেছে। শিক্ষক শিক্ষিকারা বলছেন, ‘‘এই গরমের মধ্যে স্কুলে আসতে খুদে পড়ুয়ারা কষ্ট পাচ্ছে। চোখমুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। সকালে স্কুল হলে সেই সমস্যা থাকবে না।’’
খয়রাশোল, মহম্মদবাজার, সিউড়ি ১, দুবরাজপুর-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশের দাবি, কোভিডের দু’বছর বাদ দিলে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১ এপ্রিল থেকে সকালে স্কুল শুরু হয়েছে। গ্রীষ্মের ছুটি বাদ দিলেও এই রেওয়াজ চলত ৩০ জুন পর্যন্ত। ২০২৩ সালে থেকে সেই নির্দেশে বিলম্ব হয়েছে। এ বার বাগড়া দিচ্ছে ভোট। অন্তত পনেরো দিন ধরে খুব গরম পড়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই। স্কুলে এসে খুদে কোনও পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকেই যথেষ্ট গরম পড়েছে। ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের জেলা বীরভূমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াল ছুঁয়ে গিয়েছিল। এখনও নিয়ম করে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। সঙ্গে আর্দ্রতা বেড়েছে। ফলে গুমোট গরম অনুভূত হচ্ছে। এই গরমে সুস্থ থাকতে চিকিৎসকেরা চড়া রোদ এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। সেখানে প্রচলিত সময়ে স্কুলে আসাটা সমস্যার।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, এই সপ্তাহে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও খুব একটা সুরাহা হবে না বলে মত শিক্ষক শিক্ষিকাদের। তাঁরা বলছেন, ‘‘তীব্র রোদের মধ্যে স্কুলে আসা এবং ফেরা ভীষণ কষ্টকর। আমরা শিশু পড়ুয়াদের চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু ওদের সকলকে তো কথা শোনানো যায় না। মর্নিং স্কুল হলে সে সব নিয়ে ভাবতে হয় না।’’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি বলছেন, ‘‘সম্ভবত ভোট পেরোলেই সকালে স্কুল করার নির্দেশ আসবে।’’