আজ প্রচার শেষ। উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী নিয়ে সাধারণ তৃণমূল কর্মীদের একাংশের অসন্তোষ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। কারণ, প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকার বাসিন্দা নন। ‘কাঁটা’ আরও রয়েছে। পুর পরিষেবা নিয়ে এ তল্লাটের সাধারণ মানুষের বিস্তর ক্ষোভ। ভোটের ফলে তার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল নেতৃত্ব দাবি করছেন, জয় সুনিশ্চিত।
৩২ ওয়ার্ডের উলুবেড়িয়া পুরসভা এবং দু’টি পঞ্চায়েত মিলিয়ে গঠিত এই বিধানসভা রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের দখলে রয়েছে। প্রথম বিধায়ক ছিলেন হায়দর আজিজ সফি। পরে বিধায়ক হন ইদ্রিশ আলি এবং বিদেশ বসু। তিন জনের কেউই স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন না। স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার জন্য ২০২১ সাল থেকেই দাবি করে আসছেন এলাকার তৃণমূল নেতা কর্মীদের একটা বড় অংশ। এই দাবি এ বারেও ছিল। কিন্তু তা মানা হয়নি। প্রার্থী ঘোষণার পরেই তাঁরা কার্যত বসে যান। ঋতব্রতের সমর্থনে দিন কয়েক কোনও দেওয়াল লিখন বা প্রচারে দেখা যায়নি তাঁদের। পরে অবশ্য তাঁরা প্রচারে নামেন। কিন্তু তা কতটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি হওয়ায় এই কেন্দ্রের শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যে ঋতব্রতের অবশ্য আগে থেকেই পরিচিতি আছে। সংগঠনের কাজের সূত্রে এখানে তিনি একাধিক বার এসেছেন। বহিরাগত তকমা ঘোচাতে ঋতব্রতের বক্তব্য, ‘‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে প্রার্থী করেছেন। কলকাতা থেকে এলেও আমি উলুবেড়িয়াতেই থাকছি। মানুষ আমাকে সবসময় পাবেন। এসআইআরের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার হরণের যে চক্রান্ত বিজেপি করেছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই-ই হল এই নির্বাচন।’’ প্রার্থীকে নিয়ে কর্মীদের মধ্যে কোনও ক্ষোভ নেই বলে দাবি এই কেন্দ্রে দলের সভাপতি আকবর শেখের। তিনি বলেন, ‘‘দলের সব স্তরের নেতা-কর্মী রাস্তায় নেমেছেন। প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাব।’’
নেতারা দলের অন্দরের অসন্তোষ মিটে যাওয়ার দাবি করলেও পুর পরিষেবা নিয়ে যে সাধারণ মানুষের বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে, তা পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারছেন না। ফুটপাত দখল, বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ শোনা যায় ভুরি ভুরি। বিরোধীরা এর সঙ্গে পুকুর ভরাট, পরিষেবা দিতে বেআইনি ভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলে। পুরপ্রধান অভয়কুমার দাসের দাবি, ‘‘বিরোধীরা সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল। নির্বাচনের লড়াইয়ে টিকে থাকতে পুরসভার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’
বিরোধীরাও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। একেই বিজেপি, কংগ্রেস এবং আইএসএফ দেরিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। ফলে, তাদের প্রচারও শুরু হয়েছে দেরিতে। তার উপরে একাধিক বিরোধী দলের মধ্যে ডামাডোল আছে। বিজেপি প্রার্থী রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে, তিনি বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে মনে করছেন দলীয় কর্মীরা। রুদ্রপ্রসাদের দাবি, ‘‘প্রচারের ঘাটতি মিটিয়ে নিয়েছি। মানুষের ভাল সাড়া পাচ্ছি।’’
কংগ্রেস প্রার্থী আলম দেইয়ান আবার গ্রামীণ জেলা কংগ্রেস সভাপতিও। দলের অন্য কাজ সামলে তিনি প্রচার করছেন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে বহু কর্মী বসে গিয়েছেন বলে দলেরই একাংশের দাবি। আলম এ কথা মানেননি। তিনি বলেন, ‘‘বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। সাড়াও পাচ্ছি। পুর পরিষেবা নিয়ে বহু মানুষ অভিযোগ করছেন।’’
আইএসএফ প্রার্থী নাসির খান হাওড়া শহরের বাসিন্দা। তাঁর লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোট। এই কেন্দ্রটি সংখ্যালঘু প্রধান হওয়ায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে আইএসএফের নেতাদের একাংশের আশা। প্রথমে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছিল আনসার আলি খানকে। তিনি সরে দাঁড়ানোয় নাসিরকে প্রার্থী করা হয়।