• আমি মনে করি, মানুষ রাজনীতিতে যোগ দেয় নিজের সেবার জন্য, অন্যের কথা ভাবার জন্য নয়: শুভাশিস
    আনন্দবাজার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • আমি হলাম খাঁটি উত্তর কলকাতার ছেলে। এমনিতেই তো পাড়ার একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। উত্তর কলকাতায় যাঁরা বড় হয়েছেন, এ কথা প্রায় সবাই জানেন। উত্তর কলকাতার দর্জিপাড়ার ছিদাম মুদি লেনে বড় হয়েছি আমি। ছোটবেলায় তো ভোট কী, তার প্রচার কী— এই সব বুঝতাম না। সত্যি, সেই সময় কিন্তু বেশ একটা অন্যরকম পরিবেশ থাকত।

    ইদানীং তো সেই সব পরিবেশ আর পায় না কেউ। পাড়ার দাদারাও ছিলেন অভিভাবকদের মতো। হই হই করে দেওয়াল লিখন হত, পোস্টার লাগানো হত। তখন তো কংগ্রেসের প্রতিপত্তি। সিপিএমও ছিল। পাড়াতেও সেই ভাগাভাগি ছিল। কিন্তু কোনও রেষারেষি, মারামারি, হাতাহাতি কিন্তু ছিল না। রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও সবাই কিন্তু বন্ধু। ভোট আসার আগে দেখতাম, দাদারা সেই পোস্টারে আঠা মাখাচ্ছে। ওই বিষয়টা আমাকে খুব আকর্ষণ করত।

    আমিও সেই দলে মাঝে মাঝে যুক্ত হতাম। কংগ্রেস, সিপিএমের ভাগ বুঝতাম না। তবে পোস্টারে আঠা মাখাতাম। সারা হাতে আঠায় আঠা। খুব আনন্দ পেতাম। আমি কোনও দিন সে ভাবে রাজনীতি বুঝি না। তাই যেটা বুঝি না তা নিয়ে কথা বলতেও ভালবাসি না। যদিও আমি জয়পুরিয়া কলেজে পড়েছি। রাজনীতির আখড়া সেখানে। কিন্তু বরাবরই এই সব থেকে আমি দূরে থেকেছি। উল্টে যারা রাজনীতি করতে যায়, সেটা খুব অপছন্দ হয়। আমার ইন্ডাস্ট্রি থেকে যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের দেখে মনে হয়, কেন কী কারণে ওই ময়দানে গেল? এটা তো ওদের জায়গা নয়। আলটপকা রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও অর্থ সত্যিই দেখি না।

    সকলেই দেখি কথায় কথায় বলেন, মানুষের সেবা করতে চান তাঁরা। আমি যে কাজ করছি সেটাও তো সেবা। মানুষকে অভিনয় দিয়ে আনন্দ দিচ্ছি, এটাও তো সেবা। রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষকে সেবা দেবে, কিসের সেবা দেবে? মনে হয়, তারা নিজেদের সেবাই বেশি করে। মানুষ নিজের সেবা করতেই রাজনীতিতে যোগ দেয়, অন্যের সেবা করতে নয়। তাই নির্বাচনের ছোটবেলার স্মৃতিগুলোই আমার কাছে রয়ে গিয়েছে।

    সেই সময় দেওয়াল লিখনেও একটা অন্য ছোঁয়া থাকত। ছোটবেলায় দেখতাম, দেওয়ালে ছড়া লেখা থাকত রাজনীতি নিয়ে। এক একটা দলকে তির্যক দৃষ্টিতে বলারও একটা ধরন থাকত। এখন তো সেই পরিবেশও উল্টেপাল্টে গিয়েছে। তখন বোঝা যেত, শিক্ষিত লোকেরাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকেই তাই যত্ন করে রাখতে চাই। এখন যে রাজনীতি হচ্ছে, সেটা কোনও ভাবেই আমার জন্য নয়। সেটা নিয়ে আমি তাই কোনও মন্তব্য করতেও চাই না।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)