• সমান অধিকার খর্ব করার, লঙ্ঘন করার চেষ্টা চলছে! এই মুহূর্তে তা ফিরিয়ে আনা খুব দরকার: শ্রীজাত
    আনন্দবাজার | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
    শ্রীজাত: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দেখতে চাই। এ নিয়ে কোনও দ্বিধা বা সংশয় নেই।

    ২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
    শ্রীজাত: অবশ্যই দল দেখে দিই। পছন্দের প্রার্থী থাকেন না, তা নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত, মতাদর্শ বা কর্মসূচি তো দলই ঠিক করে। ফলে যে দলের সিদ্ধান্ত, মতাদর্শ বা কর্মসূচিকে এগিয়ে রাখি, সেই দলকেই ভোট দিই।

    ৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
    শ্রীজাত: দুটো হলেই ভাল। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই এমন প্রার্থীকে পাই, যিনি রাজনীতির ময়দান থেকে আসছেন না। যাঁর রাজনীতির সরাসরি পাঠ নেই। আমার মতে হাতেকলমে রাজনীতির প্রশিক্ষণ থাকা জরুরি।

    ৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
    শ্রীজাত: আমি বিধায়ক হয়েছি, এ আমার কল্পনারও বাইরে। তবু প্রশ্নের খাতিরে বলছি, নানা উৎসবে, অজুহাতে যে লাগামহীন শব্দ প্রক্ষেপণ, তা নিয়ন্ত্রণ করতাম। অনেক অল্পবয়সি পরীক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং পথের প্রাণীর এতে সমস্যা হয়। বিধায়ক হলে অন্তত আমার অঞ্চলে এই সমস্যা সীমার মধ্যে রাখতাম।

    ৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
    শ্রীজাত: সমস্যা আছে। তবে আমার পেশা জরুরি পরিষেবার আওতায় পড়ে না। ১৪০ কোটির দেশে ঢের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আছে। যা প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে।

    ৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
    শ্রীজাত: একটা স্বচ্ছ শান্তিপূর্ণ সামগ্রিক প্রক্রিয়া দেশজুড়ে বলবৎ করলে নির্বাচন দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে। কিন্তু এত জনসংখ্যার দেশে তা আদৌ সম্ভব কি না, জানা নেই।

    ৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
    শ্রীজাত: চিরতরে রাজনীতি থেকে অপসৃত করা উচিত। কারণ দল বদলালে, এটা প্রকট হয়ে ওঠে যে, ওঁরা আসলে কোনও ভালবাসা বা আনুগত্য থেকে কাজ করেন না। কাজ করেন নিজের আখের, ক্ষমতা এবং নামের জন্য। সুতরাং তাঁদের কোনও জায়গা রাজনীতিতে থাকা উচিত নয়।

    ৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
    শ্রীজাত: বরং উল্টোটাই জরুরি। শালীনতা জরুরি। শালীনতা বজায় রেখেও রাজনীতি করা যায়।

    ৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
    শ্রীজাত: এই মুহূর্তে মানুষে-মানুষে সমান অধিকার ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সমান অধিকার ক্ষুণ্ণ করার, খর্ব করার, লঙ্ঘন করার চেষ্টা চলছে।

    ১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
    শ্রীজাত: সরাসরি সমাজের উন্নতি হয়তো করে না। কিন্তু ১৪০ কোটির দেশে যেখানে সকলের কর্মসংস্থান সম্ভব নয়, সেখানে একটি মাসিক অর্থাগম যদি নিরুপায় মানুষের আশ্রয় হয়ে ওঠে, তবে তাতে আমি অসুবিধা দেখি না।

    ১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
    শ্রীজাত: প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি বিরল। আমাদের রাজ্যেও তা বিরল হয়েই আছে। বিরোধীরা আছে বলেই সততা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। না থাকলে শাসক অহংয়ে, আত্মতুষ্টিতে ভোগে। যার কোনওটিই কাম্য নয়।

    ১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
    শ্রীজাত: আমাদের দেশে যেখানে রুপোলি পর্দার তারকাদের জন্য ভিড় উপচে পড়ে, সেখানে তাঁদের মুখ ব্যবহার করে সহজেই কিছু ভোট পাওয়া যায়। তবে দিনের শেষে জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষ কাজই চায়। তাই সেটা না হলে তারকারা কিছু করতে পারবেন না।

    ১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
    শ্রীজাত: অতীতের দু’জনের কথা বলতে চাই, যাঁদের আদর্শ আজও বহু মানুষকে দিশা দেখাতে পারে— মহাত্মা গান্ধী এবং মার্টিন লুথার কিং। আর বর্তমান সময়ে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে যদি কারও কথা বলতে হয় তবে শশী তরুর এবং বিমান বসুর নাম বলব।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)