ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় পুরুষের তুলনায় মহিলা ভোট বেশি পড়েছে। সেই সমীকরণকে সামনে রেখে এই কেন্দ্রে জয়ের আশা দেখছে তৃণমূল। পাল্টা বিজেপির দাবি, মহিলারা ভোট দিয়েছেন ‘অন্নপূর্না ভান্ডার’ সামনে রেখে। তাই সেই ভোটের বেশিরভাগ গিয়েছে পদ্মফুলেই।
জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম বিধানসভায় মোট ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৪৭ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৪৯ জন। মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ১৮ হাজার ২৯৪ জন। ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ পান ৭২ হাজার ৫৮৩ জন মহিলা। এই বিধানসভায় ভোট দিয়েছেন ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৮১২ জন। শতাংশের নিরিখে যা ৯২. ৬৩ শতাংশ। পুরুষ ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৩৬ (৯২.৪৫ শতাংশ)। মহিলা ভোট পড়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৪৪ (৯২.৭৭ শতাংশ)।
ঝাড়গ্রাম শহর, ঝাড়গ্রাম ব্লকের একাংশ ও লালগড় ব্লক নিয়ে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্র। এর মধ্যে ঝাড়গ্রাম শহরেই ৫০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছেন। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে ঝাড়গ্রাম শহরের ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডেই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। তার পর নাগরিক ক্ষোভ মেটাতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে তৃণমূল। তার সঙ্গে মহিলা ভোটও তাদের অন্যতম ভরসা। সেই ভোট বেশি পড়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে তাদের। ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সরেন বলছেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারের পাশাপাশি একাধিক কারণে জয় নিশ্চিত।’’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ঝাড়গ্রাম হল সেই কেন্দ্র যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সভা করেছেন। আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সভা করেছেন। ফলে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বিজেপিরও দাবি, মহিলা ভোট বেশি হওয়া আসলে তাদের জন্য ইতিবাচক।
এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলছেন, ‘‘শহরের মহিলারা তৃণমূলকে এমনিই ভোট দেয়নি। গ্রামের মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের উপরেই আস্থা রাখবেন।’’ তাঁর দাবি, ঝাড়গ্রাম শহর থেকেই ১২ হাজার লিড পাব।’’