‘বহিরাগত’ ধরতে বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে দৌড় শুভেন্দুর, বিরোধী দলনেতাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ তৃণমূলের, স্লোগানযুদ্ধ
আনন্দবাজার | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ভবানীপুরে উত্তেজনা। ভোট পরিদর্শনে কালীঘাট চত্বরে পৌঁছোতেই শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। বিক্ষোভের মুখে পড়়ে ফোনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকেন শুভেন্দু। তার পরেই ঘটনাস্থলে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে তারা। শুভেন্দুর অভিযোগ, এলাকায় বহিরাগতদের ঢুকিয়েছে তৃণমূল। ‘বহিরাগতদের’ ধরতে বাহিনীর সঙ্গে দৌ়ড়োতে দেখা যায় শুভেন্দুকেও। তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু।
বুধবার সাড়ে ১২টা নাগাদ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মুক্তদল মোড় এলাকায় শুভেন্দুর গাড়ি পৌঁছোতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূলের মহিলা কর্মী-সমর্থকেরা। শুভেন্দুকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। শুভেন্দু গাড়়ি থেকে নেমে এগিয়ে যান। তার পর ফের গাড়িতে উঠে চলে যান কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায়। সেখানে তৃণমূল কর্মীরা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকলে বিজেপি কর্মীরা পাল্টা ‘পিসি চোর-ভাইপো চোর’ স্লোগান দেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় ঢোকার পর জওয়ানদের নিয়ে ঢোকেন শুভেন্দু। বিজেপির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ তথা ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুকে দেখে দলীয় কার্যালয় থেকে কর্মীদের স্লোগান দিতে বলেন। তার পরেই দু’পক্ষের মধ্যে স্লোগানযুদ্ধ শুরু হয়।
গাড়ি থেকেই নির্বাচন কমিশনে ফোন করেন শুভেন্দু। ফোনে তিনি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানোর আর্জি জানান। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এসে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তার পর পটুয়াপাড়ায় ঢোকেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতা তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেন, “এ সব যত করবে, তত আমার ভোট বাড়বে। ভবানীপুর ভদ্রলোকেদের জায়গা। এখানে এ সব করে লাভ নেই।” পাল্টা কাজরী বলেন, “এখানে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট চলছিল। উনি অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তাই এলাকার মা-বোনেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে।”