• আড্ডায় মশগুল সমর্থকেরা, উত্তাপহীন দক্ষিণ শহরতলি
    আনন্দবাজার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রতি বার যে যুবকদের অন্যের নামের ভোটার কার্ড নিয়ে ভোট দিতে দেখা যেত, এ বার তাঁরাই বুথ থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আড্ডায় মজে। বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় প্রতিটি বুথেই এক চিত্র। ওঁদের কথায়, ‘‘এ বার অনেক ঝুঁকি আছে। ভুয়ো ভোটার হিসেবে ধরা পড়লে এক বছরের হাজতবাস।’’

    এ দিন কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও বারুইপুর পূর্ব, বারুইপুর পশ্চিম, সোনারপুর উত্তর এবং সোনারপুর দক্ষিণে বুধবার ভোটের চেনা চিত্রটাই বদলে গিয়েছে। শাসকদলের দাপুটে স্থানীয় নেতাদের অধিকাংশের কথায়, ‘‘সকালে ভোট দিয়ে নিজেদের আস্তানায় বসে আছি। আমরা কিন্তু সিসি ক্যামেরার আওতায় রয়েছি। বিরোধী পক্ষ এবং নির্বাচন কমিশন, কেউ দোষারোপ করতে পারবে না যে, আমরা বুথ জ্যাম করেছি।’’ গত দু’দিন ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশি ও ধরপাকড়ে কার্যত গুটিয়ে গিয়েছে শাসকদলের গুন্ডা বাহিনী।

    সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অরুন্ধতী মৈত্র (লাভলি) রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যাভূষণ বিদ্যাপীঠের ১৪৩ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে কয়েক জন অনুগামী বুথের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা আটকে দেন। যা নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়েন লাভলি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন বলে চিৎকার জুড়ে দেন। দুপুরে ওই বুথে যান বিজেপির প্রার্থী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ লাইন দেখে বুথে গিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের থেকে খোঁজ নিতে থাকেন। জানতে পারেন, সকালে লোডশেডিং এবং ভোট শুরু করতে দেরি হওয়ায় দীর্ঘ লাইন পড়েছে। রূপা প্রিসাইডিং অফিসারদের অনুরোধ করেন, সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত যত ভোটদাতা লাইনে থাকবেন, তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা জারি রাখতে হবে।

    রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএম, বিজেপি এবং তৃণমূলের পাশাপাশি দলীয় শিবির। সব দলের সমর্থকেরা প্রায় এক জায়গায় বসেই আড্ডায় মশগুল। তবে বিকেলের পর থেকে উত্তেজনা ছড়ায় সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের জগদিপোতাপ্রাথমিক স্কুলে।

    ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী, প্রাক্তন আইপিএস দেবাশিস ধর বলেন, ‘‘তিন জন অন্যের নামের ভোটার কার্ড নিয়ে ছাপ্পাদিয়েছিল। ধরা পড়ে গিয়েছে। এক জনকে টেন্ডার ভোট দেওয়ানো হয়েছে। বাকি দু’জনের খোঁজ করা হচ্ছিল। শাসকদলের কয়েক জন আমাদের উদ্দেশ্যে কটূক্তি করেন। দু’পক্ষের সমর্থকের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। পুনর্নির্বাচনের দাবি করছি। এই জায়গা ছাড়া সর্বত্র মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।’’

    দুপুরের পরে বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষবিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ফরিদপুরের একটি বুথে আসেন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিমানের দাবি, ৬০-৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি‌ জয়ী হবেন।

    ঘড়িতে তখন বিকেল প্রায় সাড়ে পাঁচটা। গড়িয়ার মহামায়াতলা কালীবাজার এলাকার একটি বুথে ঘুরে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে নানা কথায় মেতে উঠেছিলেনসোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসি বেগম। বুথ থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত এবং পুর এলাকায় মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন বলে আমি নিশ্চিত।’’
  • Link to this news (আনন্দবাজার)