শূন্যের গেরো কাটিয়ে সিপিএম হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মুর্শিদাবাদী! এক বিধায়ক নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে লাল সেলিম
আনন্দবাজার | ০৪ মে ২০২৬
কেরলে বাম সরকারের পতনের পর ৪৯ বছর বাদে ভারতের মানচিত্র বামশূন্য হয়ে গেল। যে ভোটে এ হেন বিপর্যয় ঘটল, সেই ভোটেই পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম তাদের শূন্যের গেরো কাটিয়ে ফেলল। পাঁচ বছর পরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব থাকবে সিপিএমের। তবে এক জনেরই। ডোমকল থেকে একমাত্র সিপিএম প্রার্থী হিসাবে জিতলেন মুস্তাফিজুর রহমান রানা। সে দিক থেকে সিপিএম হয়ে উঠল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মুর্শিদাবাদী!
স্বাধীনতার পরে ২০২১ সালেই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা বামশূন্য হয়ে গিয়েছিল। তার আগে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট এবং পরে ২০২৪ সালের লোকসভাতেও এই রাজ্য থেকে কোনও প্রতিনিধি পাঠাতে পারেনি সিপিএম। ফলে সিপিএমের সঙ্গে শূন্য জুড়ে ছিল গত সাত বছর ধরে। ২০২৬ সালের ভোটে সেই গেরো কেটে গেল।
সিপিএমের রানার বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর। সিপিএম শূন্যের গেরো কাটাতে সবচেয়ে ভরসা করেছিল মুর্শিদাবাদের গোটা চারেক আসনের উপর। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ডোমকল। একটা সময়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আনিসুর রহমান জিততেন এই আসন থেকে। ২০১১ সালেও ডোমকল থেকে জিতেছিলেন তিনি। ১০ বছর পর ফের লাল হল ডোমকল।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম আগ্রাসী ছিলেন শূন্যের গেরো কাটাতে। নানা প্রশ্ন ওঠা সত্ত্বেও সমীকরণ বদলাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ করেছিলেন। বিধানসভায় পাঁচ বছর আগে যখন সিপিএম শূন্য হয়েছিল, তখন রাজ্য সম্পাদক ছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র। অবশেষে সেলিমের জমানাতেই শূন্যের গেরো কাটাল সিপিএম। ভোটের ফলাফল নিয়ে সেলিম বলেন, ‘‘এত দিনে আরএসএস-এর সাধ পূর্ণ হল। সৌজন্যে নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং মমতার আমলের দুর্নীতি, অপশাসন। এ বার উগ্র দক্ষিণপন্থার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই হবে বামেদের।’’ আগামী পাঁচ বছর রানাকে দলে ধরে রাখাও চ্যালেঞ্জ সিপিএমের। দলবদলের সংস্কৃতিতে যাতে তিনি ভেসে না-যান, তা-ও ভাবতে হচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটকে।