হারের দায় নিয়ে তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়কের! হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্বে ছিলেন এত দিন
আনন্দবাজার | ০৫ মে ২০২৬
তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। সোমবার বেশি রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। বিবেক লিখেছেন, দলীয় নেতৃত্বের তরফে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক এ বারের নির্বাচনে টিকিট পাননি। তৃণমূল এ বার সেখান থেকে প্রার্থী করেছিল বিজয় উপাধ্যায়কে। তিনিও পরাস্ত হয়েছেন। পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির বিজয় ওঝা। এর পরে রাতেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দলের সব পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন বিবেক।
তৃণমূলের হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্বে ছিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক। দলের ওই শাখার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর দিনাজপুরের হিন্দিভাষী এলাকায় সন্তোষজনক ফল করতে পারেনি তৃণমূল। পতন হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। এ অবস্থায় সোমবার রাতেই সমাজমাধ্যমে বিবেক লেখেন, “২০২৬ সালের ভোটে দলের ফলের সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি আমি। দলের এক জন নেতা হিসাবে আমি আমার ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছি। তাই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম এবং নেতৃত্বের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছি।”
এর পরে দ্বিতীয় একটি পোস্টে জোড়সাঁকোবাসীর উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন বিবেক। তিনি লেখেন, “জোড়সাঁকোর মানুষ তাঁদের মতামত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন। বিজয় ওঝাকে আগামী ৫ বছরের জন্য জোড়াসাঁকোর সেবা কারার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আশা করি তিনি মানুষের সেবা করবেন এবং তাঁদের জীবন আরও উন্নত করবেন। ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে জো়ড়াসাঁকোর মানুষের সেবা করেছি। আজ, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক হিসাবে আমার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করলাম।”
দেড় দশক পরে রাজ্যে ফের রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তৃণমূলের দুর্গে ধস নামিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ২০০-টিরও বেশি আসন জিতে নিয়েছে তারা। তৃণমূলের আসন নেমে গিয়েছে ১০০-র নীচে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলেই সাংবাদিক বৈঠক করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে ওই সাংবাদিক বৈঠকে মমতার সঙ্গে থাকবেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হারের পরে তৃণমূলের তরফে কী বলা হয়, সে দিকে নজর রয়েছে সকলের। উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সেখানে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।