হিংসা রুখতে রাজনীতির রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ করুন! মুখ্যসচিবকে বার্তা শমীকের, বিধাননগরে বৈঠকে বিজেপি
আনন্দবাজার | ০৬ মে ২০২৬
রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এই ধরনের কাজ করবেন, তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনটাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বে এখন রয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁকেও এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শমীক। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিধাননগরেরদফতরে বৈঠকও করেছেন। হিংসা রুখতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলের তরফে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোট গণনা হয়েছে। ২০৭টিতে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে চলেছে। গণনার পরের দিন সকালে শমীক রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। যাঁরা বাইরে থেকে এসে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়ে সতর্ক থাকার আর্জিও জানিয়েছেন দলের কর্মীদের কাছে। তিনিবলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’’
মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছেও হিংসা রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আর্জি জানান শমীক। তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’’
শমীক আরও বলেছেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা এত দূর থেকে নিজের গাঁটের কড়ি খরচ করে এসেছেন এবং ভোট দিয়েছেন।’’
সূত্রের খবর, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিধাননগরের দফতরে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকেরাও ছিলেন। হিংসা কী ভাবে আটকানো যায়, দলের কী করা উচিত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ধরনের হিংসার অভিযোগ উঠেছিল, বিজেপির হাতে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব স্তরেই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজনীতির রং না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছেন শমীক। সকল রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।
ভোটের পরের অশান্তি ঠেকাতে বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা অনেকে ময়দানে নেমে পড়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে জয়ী বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফা মঙ্গলবার গাড়ি থেকে মাইকিং করতে করতে এলাকায় ঘোরেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের শান্ত, সংযত থাকতে অনুরোধ করেন তিনি। ভাতারে বিজেপি জেতার পর তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি প্রার্থীর এই উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। সৌমেন বলেন, ‘‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অতি উৎসাহী হয়ে যাঁরা অশান্তি করছেন, তাঁদের সতর্ক করছি। এর পরেও কেউ এই ধরনের কাজ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’