রাজ্যে প্রথম বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তাদের প্রথম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নামে সিলমোহর পড়েছে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে। এর পরে নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর সহকর্মী কারা হবেন, তা নিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত চলছে আলোচনা।
শুভেন্দু-সহ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায়, সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় সন্ধ্যায় রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। তার পরে বেশি রাত পর্যন্ত নিউ টাউনের একটি হোটেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে চলছে মন্ত্রিসভা গঠনের প্রশ্নে আলোচনা। একটি সূত্রের খবর, প্রথম পর্বে ২০ থেকে ২৫ জন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।
বিজেপি-শাসিত রাজ্যে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর চল আছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা শরিকি সরকার চালানোর জন্য। তবে বিপুল সংখ্যায় আসন নিয়ে প্রথম বারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে পশ্চিমবঙ্গেও সম্ভবত দু’জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। তার মধ্যে এক জন মহিলা এবং অন্য জন উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধি হতে পারেন। দু’জনের মধ্যে এক জনকে একই সঙ্গে তফসিলি জাতি বা জনজাতির প্রতিনিধি হিসেবেও রাখা যায় কি না, সেই অঙ্কও বিজেপি নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে। বিজেপি সূত্রের ইঙ্গিত, বিধানসভার স্পিকার হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন তাপস রায়।
রাজ্য মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব রাখার রেওয়াজ আছে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে একাধিক মন্ত্রিত্ব হতে পারে। এই সূত্রে মুর্শিদাবাদের গৌরীশঙ্কর ঘোষ, নদিয়ার বঙ্কিম ঘোষ, পূর্ব বর্ধমানের সৈকত পাঁজা, পশ্চিম বর্ধমানের জিতেন্দ্র তিওয়ারি, অগ্নিমিত্রা পাল মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। হাওড়া থেকে রুদ্রনীল ঘোষ, হুগলি থেকে দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, বাঁকুড়া থেকে সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া থেকে সুদীপ মুখোপাধ্যায়েরা মন্ত্রী হতে পারেন। পাশাপাশি, বীরভূম থেকে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে নাম আছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন অর্জুন সিংহ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, সুব্রত ঠাকুর। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ। কলকাতা থেকে মন্ত্রিসভায় যেতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত ও রীতেশ তিওয়ারি । পূর্ব মেদিনীপুর থেকে অশোক দিন্দা, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে অজিত জানা ও দিলীপ ঘোষ মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন। ঝাড়গ্রাম থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন প্রণত টুডু। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন নিশীথ প্রামাণিক। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে সত্যেন রায়, কালিম্পং থেকে ভরত ছেত্রীকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলে চর্চা রয়েছে। দার্জিলিং জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন শঙ্কর ঘোষ। মালদহ থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান হতে পারেন জোয়েল মুর্মু এবং অম্লান ভাদুড়ী। উত্তর দিনাজপুর থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভবনা উৎপল ব্রহ্মচারীর। আলিপুরদুয়ার থেকে মনোজকুমার ওরাওঁ মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন। জলপাইগুড়ি থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। নতুন বিধানসভায় শাসক পক্ষের মুখ্য সচেতক হতে পারেন দীপক বর্মণ।