• সঙ্গে তৃণমূলের লোক, অভিযোগের ‘সাহস’ পেলেন না গ্রামবাসী!
    আনন্দবাজার | ২৫ জানুয়ারি ২০২৩
  • কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের লোকজন। সেই কারণে সরকারি প্রকল্প নিয়ে অভিযোগের কথা ওই দলের কাছে বলতে পারেননি তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় দুই প্রতিনিধি ফিরে যাওয়ার পরে এই দাবি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তারকেশ্বর ব্লকের নাইটা-মালপাহারপুর পঞ্চায়েতের বিনোদবাটী গ্রামের কিছু বাসিন্দা। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কেমন ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করেছে, এই ঘটনাতেই স্পষ্ট। তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ মানেননি।

    এ দিন দুপুরে কেন্দ্রীয় দল নাইটা-মালপাহারপুরে যায়। ১০০ দিনের কাজ, নিকাশি, রাস্তা, আবাস যোজনার বাড়ি— প্রভৃতি প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন। বিনোদবাটী গ্রাম থেকে তাঁরা ফিরে যাওয়ার পরেই গ্রামবাসীদের একাংশ দাবি করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে অসন্তোষের কথা কেন্দ্রীয় দলকে তাঁরা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তৃণমূলের লোকজন ওই দলের সঙ্গে থাকায় সাহস পাননি। বাপন মালিক নামে এক গ্রামবাসীর অভিযোগ, ‘‘আবাস যোজনার বাড়ির জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ছবি তোলার জন্য যিনি এসেছিলেন, তাঁকে ২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সবাই যদি দুই-পাঁচ হাজার টাকা করে নেন, ঘর কী করে হবে! আমাদের টাকা দিতে হবে না। ওঁরা ঘর করে দিন। তা হলে নেতাদের টাকা দিতে হবে না।’’

    পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মনিরুল বলেন, ‘‘অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওঁরা কেন্দ্রীয় দলের কাছে অভিযোগ করতেই পারতেন। ওই দলে তৃণমূলের কেউ ছিলেন না। পঞ্চায়েতের কর্মীরা ছিলেন।’’

    বিজেপির রাজ্য সম্পাদক তথা পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, ‘‘তৃণমূল কী ভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে, এই ঘটনাতেই প্রমাণিত।’’ তারকেশ্বরের সিপিএম নেতা স্নেহাসিস রায়ের কটাক্ষ, ‘‘তৃণমূল ও বিজেপির জোটবদ্ধ কেন্দ্রীয় দল ঘুরছে। চোরকে নিয়ে যদি কেউ ঘোরে, তা হলে চুরির কথা কেউ বলে!’’

    স্নেহাশিসের তোলা পারস্পরিক যোগাযোগের অভিযোগ তৃণমূল ও বিজেপি— দুই দলই উড়িয়ে দিয়েছে। তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় দল কোথায় যাবে, সঙ্গে কাকে নেবে, তারা ঠিক করেছে। এখানে তৃণমূলের তকমা লাগিয়ে দিলে হবে!’’

  • Link to this news (আনন্দবাজার)