• প্রকাশ্যে মিমিকে কটূক্তি, ধৃত ট্যাক্সিচালক
    বর্তমান, 16 September 2020
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের অভিনেত্রী-সাংসদ মিমি চক্রবর্তীকে লক্ষ্য করে কটূক্তি এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার জোড়া খেসারত দিতে হল এক ট্যাক্সিচালককে। শ্রীঘরে ঠাঁই তো হলই, উপরি হিসেবে জুটল মিমির ক্যারাটের প্যাঁচ। হঠাৎ মারতে গেলেন কেন? তৃণমূল সাংসদের সাফ জবাব, ওই ট্যাক্সিচালক শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। সাংসদ নয়, একজন সাধারণ নারী হিসেবেই যা করার করেছেন তিনি। যাতে তাঁকে দেখে অন্য মেয়েরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পান। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালক দেবা যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। মঙ্গলবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি, অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার। দুপুর দেড়টা নাগাদ নিজের ইনোভা গাড়িতে বালিগঞ্জ থেকে কসবা ফিরছিলেন মিমি। গড়িয়াহাটের কাছাকাছি সিগন্যাল দাঁড়িয়েছিল তাঁর গাড়ি। গাড়িতে কোনও দেহরক্ষী ছিলেন না। শুধু তৃণমূল সাংসদ ও তাঁর চালক ছিলেন। সেই সময় আচমকাই পিছন থেকে একটি ট্যাক্সি এসে তাঁর গাড়িটির একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। অভিযোগ, ঘাড় ঘুরিয়ে সাংসদকে দেখতে পেয়েই ওই ট্যাক্সির চালক কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। প্রথমে খেয়াল করেননি মিমি। তাঁর গাড়ির চালকই বিষয়টি দেখতে পেয়ে জানান। সঙ্গে সঙ্গে কাচ নামিয়ে প্রতিবাদ করেন মিমি। কিন্তু, ওই ট্যাক্সিচালক দমেনি। উল্টে সে সাংসদকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপরই মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে পড়েন সাংসদ। ওই ট্যাক্সিচালককেও টেনে নামান তিনি। অভিযোগ, ট্যাক্সি থেকে নেমে ওই চালক সাংসদের হাত ধরে টানা-হ্যাঁচড়া করতে থাকে। তখনই ক্যারাটের প্যাঁচে তাকে কাবু করে ফেলেন মিমি। দু’ঘা পড়তেই ওই ট্যাক্সিচালক আর সেখানে দাঁড়ায়নি। ততক্ষণে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ট্যাক্সি নিয়ে চম্পট দেয় সে।

    মিমি কিন্তু বিষয়টি সেখানেই শেষ করেননি। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ওই রাস্তায় কর্তব্যরত ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে ঘটনাটি জানিয়ে ট্যাক্সির নম্বরটি দিয়ে দেন। তারপর সোজা গড়িয়াহাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যার ভিত্তিতে শ্লীলতাহানি, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং কটূক্তির ধারায় মামলা রুজু করে ট্যাক্সিচালকের খোঁজ শুরু করে পুলিস। প্রথমে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ট্যাক্সিটিকে চিহ্নিত করা হয়। তারপর সাংসদের দেওয়া নম্বরটির সঙ্গে ফুটেজ থেকে পাওয়া ট্যাক্সির নম্বর মিলিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। দেখা যায়, দু’টি নম্বর হুবহু মিলে যাচ্ছে। এরপরই পুলিস অভিযুক্ত দেবা যাদবের নাগাল পেতে তল্লাশি শুরু করে। সোমবার রাতেই তাকে আনন্দপুর থানা এলাকার উত্তর পঞ্চান্নগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার গাড়িটিকেও আটক করা হয়।

    মহানগরের রাজপথে প্রায়শই মহিলাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। বারবার শিরোনামে উঠে আসে সেইসব খবর। এবার স্বয়ং সাংসদ হেনস্থার শিকার হওয়ায় বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়ল শহরের সার্বিক নারী-সুরক্ষা। যদিও পুলিসের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • Link to News (বর্তমান)