• চীনের আগ্রাসনের জেরে অগ্নিপরীক্ষা দিচ্ছে সেনা: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
    বর্তমান, 16 September 2020
  • নয়াদিল্লি: চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা মানে না। তাদের আগ্রাসনের জন্যই লাদাখে অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে সংসদে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনা আগ্রাসন নিয়ে বিবৃতিতে একথাই বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর কথায়, ‘দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা টানা হয়েছে চীন তা মানতে চায় না। বারংবার তাদের আগ্রাসনের জেরেই সীমান্তে অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন সেনাবাহিনী।’ চীনের আগ্রাসনের জেরেই পূর্ব লাদাখে উত্তেজনা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    করোনার সংক্রমণের মধ্যেই কয়েক মাস ধরে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। গলওয়ান উপত্যকায় ২০ জওয়ানের প্রাণ যাওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছিল। চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে অতিরিক্ত সেনা সরাতে রাজি হয়। যদিও আগস্ট মাস থেকে ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এপ্রিল মাস থেকে পূর্ব লাদাখ লাগোয়া প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় বিপুল সেনা মজুত করে চীন। মে মাসের গোড়া থেকে শুরু হয় আগ্রাসন। জবাব দিতে ভারতও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন শুরু করে। এ নিয়ে দু’পক্ষের আলোচনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মেলার মধ্যেই গালওয়ানে হামলা চালায় লাল ফৌজ। গালওয়ানের ঘটনায় ভারতের ২০ জওয়ানের প্রাণ গেলেও চীনের দিকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি বলে দাবি রাজনাথের। গালওয়ান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ফের যখন দু’পক্ষ সমঝোতার রাস্তায় হাঁটতে রাজি হয়েছে তখন ফের একবার বিশ্বাসভঙ্গ করে চীন। রাজনাথ জানিয়েছেন, ২৯ আগস্ট রাত থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে চারবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করেছিল চীনা সেনা। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রতিবারই সেই অসাধু প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে। এক্ষেত্রে জওয়ানরা প্রয়োজন অনুযায়ী আগ্রাসী ও সংযমী আচরণ করেছেন বলে তাঁদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সেনাবাহিনী যে শৌর্যের নিদর্শন রেখেছে তার জন্য গোটা দেশের তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত’। আগামী দিনেও সেনা তথা ভারত সরকার যে কোনও চক্রান্তের যোগ্য জবাব দেওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
  • Link to News (বর্তমান)