•  সারাদিন দোকান খোলা, খদ্দের নেই মেহেন্দি পরার গড়িয়াহাট
    বর্তমান, 16 September 2020
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: এই পেশায় কাছাকাছি যেতে হয়। কাজ করতে হয় হাতে হাত রেখে। কিন্তু এখন করোনা-কাল। কাছে আসার প্রশ্নই নেই। তাই দিনভর গালে হাত দিয়ে বসে আছেন তাঁরা... মেহেন্দি ব্যবসায়ীরা।

    গড়িয়াহাটের বাসন্তী দেবী কলেজের ফুটপাত। লাইন দিয়ে বসে মেহেন্দি ব্যবসায়ীরা। সকাল দশটায় দোকান খুলে সন্ধে পর্যন্ত বসে থাকাই সার। খদ্দেরের দেখা নেই। তাঁদের বসার চেয়ার থাকলেও সেগুলিতে পড়ে রয়েছে মেহেন্দির বিভিন্ন নকশার ছবি। ছোঁয়াচের আতঙ্ক কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে যাচ্ছেন না অনেকেই। আসছে না বাড়িতে গিয়ে মেহেন্দি পরানোর বরাতও। ব্যবসা হারিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন নকশাকাররা। তবে হাল ছাড়েননি কেউ। ‘নিউ নর্মাল’ জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত সমস্ত সর্তকতা মেনেই দোকান খুলছেন তাঁরা। ফুটপাতের দোকানগুলিতে রাখা হয়েছে স্যানিটাইজার, গ্লাভস, মাস্ক। বসার চেয়ার থেকে শুরু করে মেহেন্দির সরঞ্জাম, নকশার ছবি সমস্ত কিছু নিয়মিত স্যানিটাইজ করছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু অপেক্ষা সাজগোজ প্রিয় শহরবাসীর।

    গড়িয়াহাটের ফুটপাত চত্বরে মেহেন্দি পরানোর ব্যবসা অত্যন্ত জনপ্রিয়। শহরের তো বটেই, একইসঙ্গে উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু মানুষও এখানে এসে মেহেন্দি পরতে পছন্দ করেন। বিয়ের কনেদেরও মেহেন্দি পরার ‘ফেভারিট স্পট’ বাসন্তী দেবী কলেজের ফুটপাত। কিন্তু করোনা-পর্বে দূরত্ব-বিধির জাঁতাকলে শহরবাসীর ‘ফেভারিট স্পট’ ইদানীং শ্মশানপুরী। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই প্রায় প্রত্যেকে দোকান খুলেছেন। তবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যবসায়ীর গড় খদ্দেরের সংখ্যা ২-৩ জন। তাও মূলত রাখী উৎসবকে কেন্দ্র করে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে কার্যত বউনি না করেই ফিরে যাচ্ছেন। সৌমিত্র বেনিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর মন্তব্য, ‘প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম থেকেই বাড়িতে গিয়ে মেহেন্দি পরানোর বুকিং শুরু হয়ে যায়। তবে এই বছর বদলেছে ছবিটা। মূলত নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি, এই চার মাসে বিয়ের মরশুম থাকায় রমরমা বাজার থাকে মেহেন্দি নকশাকারদের। সেই উপলক্ষে প্রায় মাস ছয়েক আগে থেকে বুকিং চলে আসে ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে এ বছর সংক্রমণের আতঙ্কে যে-সব বুকিং এসেছিল, তার প্রায় সবকটিই বাতিল হয়ে গিয়েছে। যার ফলে শিল্পীদের পেট চালানো দায়।’

    খদ্দের টানতে আগের তুলনায় পারিশ্রমিকও কমিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। গড়িয়াহাটের মেহেন্দি নকশাকার স্বপন দাস জানান, লকডাউনের আগে একজন কনের মেহেন্দি নকশার খরচ পড়ত প্রায় ১৫০০-৩০০০ টাকার কাছাকাছি। সেই পারিশ্রমিক কমিয়ে ১০০০-১৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। যাতে মানুষ এই ব্যবসা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুখ ফিরিয়ে না নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা তলানিতে। তাই নিজেদের ব্যবসা চালানোর স্বার্থে মানবিক হয়েছেন প্রায় প্রত্যেক ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, মেহেন্দি ব্যবসায় ভাটা থাকায় অনেকেই স্টলে অন্যান্য ব্যবসা খুলে বসেছেন। কেউ গামছা, কেউ স্যানিটাইজার ইত্যাদি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস বেচে অতি কষ্টে সংসার চালাচ্ছেন।  -নিজস্ব চিত্র
  • Link to News (বর্তমান)