• একবালপুরে খুন মা, জখম দুই মেয়ে, থানায় আত্মসমর্পণ হামলাকারীর
    আনন্দবাজার, 25 September 2020
  • শুক্রবার দুপুরে একবালপুরের একটি বহুতলে ঢুকে মা ও দুই মেয়ের উপর হামলা চালাল পরিবারেরই এক আত্মীয়। ভারী অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে আঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় মায়ের। ঘটনার পর হামলাকারী একবালপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

    স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ সুধীর বসু রোডের ওই বহুতলের চারতলায় একটি ফ্ল্যাটের বাসিন্দা আকিদা খাতুন এবং তাঁর দুই মেয়ের উপর চড়াও হয় হামলাকারী সুলতান আনসারি । শিলনোড়া জাতীয় ভারী জিনিস দিয়ে তিন জনের মাথা এবং শরীরে অন্যান্য অংশে আঘাত করে সে। ওই বহুতলের বাসিন্দা শাকিল আহমেদ বলেন, ‘‘নমাজের সময় ছিল। তাই আমাদের আবাসনের অনেকেই তখন ছিলেন না। যাঁরা ছিলেন, তাঁরা চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ পেলেও তেমন গুরুত্ব দেননি।’’

    ঘটনার পরে সুলতান থানায় পৌঁছে অপরাধের কথা জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। শাকিলের কথায়, ‘‘পুলিশ ঢুকতেই ভিড় জমে যায়। বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখি, রক্তাপ্লুত অবস্থায় তিন জন ফ্ল্যাটের মেঝেতে পড়ে রয়েছেন।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আকিদার মৃত্যু হয়। দুই মেয়ের অবস্থা এখনও সঙ্কটজনক। বড় মেয়ের শাগুফতার বয়স ২০ বছর, ছোট মেয়ে তইবার ১৮।

    স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, চারতলার ওই ফ্ল্যাটে স্বামী হারুণ রশিদ এবং দুই মেয়ের সঙ্গে থাকতেন আকিদা। হামলার সময় হারুণ বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী সুলতান সম্পর্কে হারুণের তুতো ভাই।

    ঘটনার পরেই বহুতলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। ছুটে যান কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াডের তদন্তকারীরা। বিকেলে একবালপুরের ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুরসভার প্রশাসকতথা রাজ্যেরপুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘‘হামলাকারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’’ পুলিশ সূত্রের খবর, সুলতানকে জেরা করে হামলার কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

  • Link to News (আনন্দবাজার)