• শুনো শুনো গো সবে

    গায়ক: কিশোর কুমার | সুরকার: সলিল চৌধুরী | গীতিকার: সলিল চৌধুরী | ঘরানা: আধুনিক, ছায়াছবি | সিনেমা: কবিতা
  • শুনো শুনো গো সবে শুনো দিয়া মন

    বিচিত্র কাহিনী এক করি বর্ণন

    এক দেশে এক বনের ধারে ছোট্ট নদীর তীরে

    ছিল এক রাখাল ছেলে এক ছোট কুটিরে

    আপন বলে তার কেউ ছিল না দুনিয়ায়

    সারাটা দিন ধেনু চড়াত বনে

    থামায়ে ডাকাডাকি শুনিতো পশুপাখি

    যখন বাজাত বেণু নিজেরই মনে


    পশুপাখি হরিণ হাতী সাথী ছিল তার

    সঙ্গে তাদের হেসে খেলে দিন যে যেত তার

    বুঝত সে তাদেরই কথা তারা বুঝত তার

    এমনি করে কয়েক বছর হয়ে গেলো পার

    হঠাৎ কি হলো মনে ভাবল রাখাল কি কারণে

    মানুষের সঙ্গ বিনা আর থাকা না যায়

    যা ছিল ধূলি কড়ি তাই নিয়ে সে দিলো পাড়ি

    যাবার আগে সবার কাছে নিল সে বিদায়


    হাতী প্রথমে কেঁদে বলল থেকে যাও

    গরু বাছুর ছাগল সবাই বললো সঙ্গে নাও

    এরপরে পাখিরা এলো সকলে দল বেঁধে

    বললো মোরা গান শুনিয়ে রাখব তোমায় বেঁধেে

    কিন্তু সে রাখালের মনে কি হয়েছিল কে জানে

    গেলো সে ইস্টিশনে বাধা না মেনে

    রেলের গাড়িতে চড়ে গেলো সে দূর শহরে

    সঙ্গী সাথী পশুপাখি ফেলে পিছনে


    শহরে এসে রাখালের লেগে গেল তাক

    বিরাট বিরাট বাড়ি গাড়ি কত না হাঁক ডাক

    মানুষে মেশিনে সেথা চলে লেনদেন

    আকাশে সেখানে উড়ে বেড়ায় এরোপ্লেন

    সেই শহরে রাজমহলের এক কোনে এক আস্তাবলে

    ঘোড়া দেখাশোনার ছলে পেয়ে গেল কাজ

    কিন্তু সে রাখালের ছেলে জঙ্গলেতে থাকার ফলে

    মানুষ এ কি কথা বলে ভুলে গেছে আজ

    তার ভাষাও কেউ বোঝে না করে হাসাহাসি

    হি হি হি

    মনের দুঃখে রাখাল ছেলে বাজায় বসে বাঁশি


    বাঁশি শুনে সেই শহরে যত কুকুর ছিল

    রাখাল ছেলের সঙ্গে তাদের ভারি দোস্তি হলো

    কিন্তু মাসীর গুণপনার ভক্ত ছিল আর একজনা

    সেই প্রাসাদের রাজার কন্যা চম্পাবতী নাম

    রাখার ছেলের অগোচরে রোজ নিশিতে তার শিয়রে

    একশো চাঁপা ফুলের গোড়ে দিয়ে যেত ধাম

    কিছুই জানে না রাখাল শুধু মনে ভাবে

    সরস্বতীর আশীর্বাদের ফুল বুঝি বা হবে

    এরপরে এক রাতে হঠাৎ ভেঙে যায় ঘুম

    দেখে চম্পাবতী শিয়রে তার দাড়িয়ে নিঝুম


    অগাধ রূপের রাশি মুখে মধুর হাসি

    বলে তোমার বাঁশি আমি যে দাসী

    ওগো রাখাল ছেলে কোন সে দেশে খুঁজে ফেলে

    এ কোন সুরের জালে বাঁধলে গো আসি

    বুঝল না সে রাখাল ছেলে রাজকুমারের ভাষা

    রইল চেয়ে বোকার মতন দুচোখ ভাসা ভাসা

    রাজকুমারী ভাবল বুঝি কোন দেশী এ চাষা 

    চলে গেল ধীরে ধীরে মুখে তার হতাশা


    এরপরে এক রাজার কুমার

    অ্যাম্বাসেডর গাড়ি চড়ে তার

    এল জিতে নিলো কন্যার কোমল হৃদয়

    বললো চম্পাবতী হাসি ওগো রাখাল সন্যাসী

    এবার তুমি বাজাও বাঁশি দাও করে বিদায়


    সেই প্রাসাদে বন্দী ছিল এক যে খাঁচার টিয়ে

    বললো রাখাল ছেলে শোনো যা বলি মন দিয়ে

    যাও ফিরে যাও বনে তোমার

    কেউ বুঝবে না কথা তোমার

    মানুষের ব্যাপার স্যাপার আলাদা রকম

    এরপরে যা হবার হলো রাজার ছেলে চলে গেল 

    আমার কথাটি ফুরাল কাহিনী খতম


    বিদায় আমিও নিলাম করিয়া প্রণাম

    যেন চিরসুখী হয় দম্পতি খুরে মনস্কাম

    এবার সবাই মিলে প্রাণ খুলে ভাই

    বলো রাম রাম