নির্দেশ অমান্য করায় বিডিওকে কেন জেলে পাঠানো হবে না, কৈফিয়ত চাইল হাইকোর্ট
বর্তমান | ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছর ঘুরতে চললেও এএনএম পদে নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করেননি বিডিও। সেকারণে কেন তাঁকে জেলে পাঠানো হবে না— সেই জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টে সশরীরে উপস্থিত থেকে মালদহের মানিকচকের বিডিওকে এবার এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
ঘটনা হল, মালদহের মানিকচক থানার ভূতনি সাব সেন্টারে এএনএম (দ্বিতীয়) পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মামলাকারী ভুবনেশ্বরী মণ্ডলকে প্যানেল থেকে বাদ দিয়ে ২০০৭ সালে অনুপমা মণ্ডল নামের অন্য এক প্রার্থীকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে মামলা হয়।
মামলার দীর্ঘ শুনানির পর গত বছরের ৮ জুলাই বিচারপতি রায়ে জানিয়ে দেন, গ্রাম্য এলাকায় এএনএম পদের গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ এএনএম-দের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ভুবনেশ্বরী মণ্ডল যেহেতু ওই পদে অস্থায়ীভাবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, তাই তাঁকে ওই পদে নিয়োগ দিতে হবে। কিন্তু জুলাই মাসের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও মামলাকারীকে ওই পদে নিয়োগ দেননি বিডিও। যেকারণে এবার আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন ভুবনেশ্বরী। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে সেই মামলার শুনানি হয়। ভুবনেশ্বরীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম দাবি করেন, এই ধরনের সরকারি আধিকারিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই প্রবণতা বন্ধ হবে না। বিডিও-র তরফে দাবি করা হয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে মামলাকারীকে নিয়োগ দেওয়া যায়নি। এই বক্তব্য শুনে উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি। এরপরই ওই বিডিও-র বিরুদ্ধে রুল জারির নির্দেশ দেন তিনি। সেইসঙ্গে আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করার জন্য ওই বিডিওকে কেন এক মাসের জন্য জেলে পাঠানো হবে না, সেই প্রশ্নেরও জবাব তলব করেছেন বিচারপতি। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিডিওকে সশরীরে উপস্থিত থেকে আদালতের এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।