• নিয়মিত ফোন করে বিয়ের চাপ, প্রতিবেশী যুবকের উৎপাতে আত্মহত্যা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর...
    আজকাল | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত করছিল প্রতিবেশী যুবক। নিয়মিত চাপ দেওয়া হত বিয়ে করার জন্য। যুবকের উৎপাতে মানসিকভাবে একপ্রকার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ওই পড়ুয়া। মাধ্যমিকের প্রথম দিনের পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি এসে আত্মঘাতী মাধ্যমিক পরিক্ষার্থী। নিজের ঘরে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে। অভিযোগ, নিয়মিত ফোন করে  ওই যুবক উত্তপ্ত করত ওই পড়ুয়াকে। সোমবার বিকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অশোকনগর থানার অন্তর্গত গুমা এলাকায়।

    পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ওই কিশোরীর বয়স ১৬ বছর। গুমার রবীন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্রীটি গুমার ছোটবামুনিয়ায় মামার বাড়িতে থাকত। সেখানে থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় সে। তার সিট পড়েছিল রাজীবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবাশী যুবক জসীম উদ্দিন দফাদার দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্তপ্ত করত। বিয়ে করার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দিত। এমনকি, জসীমের উৎপাতে বাড়ি থেকেও বেরোতে ভয় পেত ওই কিশোরী।

    বিষয়টি জানতে পেরে যুবকের বাড়িতে জানানো হয়। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। মৃত ছাত্রীর মামা জানিয়েছেন, সকালে হাসিমুখে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল তাঁর ভাগ্নি। পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পর ফোনে কথা কাটাকাটি হয় অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে। তাঁরা শুনতে পেয়েছিলেন, ভাগ্নি বলছে পরীক্ষার সময় তাকে বিরক্ত না করতে। এরপর হঠাৎই দৌড়ে তার নিজের ঘরে চলে যায়। কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে ওপরের ঘরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

    তড়িঘড়ি ওই পরীক্ষার্থীকে বারাসাত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। সোমবার রাতে জসীম উদ্দিনের নামে অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার মামা আসরব আলি মল্লিক। তিনি বলে, ‘পাড়ার ছেলেটি বারবার ভাগ্নিকে ডিস্টার্ব করছিল। বিয়ে করার জন্য চাপ দিত। আমরা বেশ কয়েকবার নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু তাতেও কান দেয়নি। ওর অত্যাচারেই আত্মহত্যা করল’। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।
  • Link to this news (আজকাল)