• ৩ বস্তায় ঠাসা বারুদ! 'বাজি নয়, তৈরি হত বোমা', পাথরপ্রতিমা বিস্ফোরণে দাবি স্থানীয়দের...
    ২৪ ঘন্টা | ০১ এপ্রিল ২০২৫
  • পিয়ালি মিত্র | নকীবউদ্দীন গাজি: রাজ্যে ফের বাজি বিস্ফোরণ। সোমবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার বণিক পরিবারের আট সদস্যের। তাঁদের মধ্যে রয়েছে দু’জন সদ্যজাত-সহ চার শিশু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এক জন, মঙ্গলবার সকালে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা যায় যে সুতপা বণিকের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ বডি পুড়ে গিয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি মারা যান। আজই হতে পারে ময়না তদন্ত। 

    বংশ পরম্পরায় দীর্ঘ দিন ধরেই বাজি বানাত বণিক পরিবার। বাজি তৈরির লাইসেন্সও ছিল বলে প্রশাসন সুত্রে খবর। পুলিস সূত্রে খবর, পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকা থাকে বণিক পরিবার। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায়। তার কিছুক্ষণ বাদে স্থানীয়েরা দেখতে পান আগুনের গ্রাসে গোটা বাড়ি। শুরু হয় হইচই। আগুন নেভানোর চেষ্টার মধ্যে আবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিস।

    মঙ্গলবার জানা যায় যে চন্দ্রকান্ত ও তাঁর ভাই এলাকাতেই আছে। চন্দ্রকান্ত, ভাই তুষার ও তাঁদের মা ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন, সেই কারণেই বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা। ৩ জন বেঁচে গেলেও বাড়িতে সেই সময় উপস্থিত ৮ সদস্যের মৃত্যু হয়। ইতোমধ্যেই মামলা রুজু করেছে পুলিস। দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে। রুজু হয়েছে অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা সহ ফায়ার সার্ভিস অ‍্যাক্টে মামলা।  

    এখনও ঘরে মজুত রয়েছে বিপজ্জনক বস্তু। ঘটনাস্থলে রয়েছে খড় চাপা দেওয়া বস্তাভর্তি বোমা। চোখে পড়ল পুকুর পাড়ে খোলা মাঠে ড্রাম ভর্তি ভর্তি বারুদ লোকানো। এলাকাবাসীদের দাবি, শুধু বাজি নয়, বানানো হল বোমাও। সেখান থেকেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ বলেই দাবি স্থানীয়দের। এমনকী চন্দ্রকান্ত বণিকের কাকার দাবি, তিনি প্রশাসনকে বারংবার জানালেও কোনও কাজ হয়নি। 

     

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)