পাথরপ্রতিমায় বিস্ফোরণের পর অ্যাকশনে পুলিশ, বজবজ-নোদাখালিতে উদ্ধার বিপুল বাজি, ধৃত ৩
প্রতিদিন | ০২ এপ্রিল ২০২৫
সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকার বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন মারা গিয়েছেন। সেই ঘটনার পরেই জেলাজুড়ে তল্লাশি অভিযানে নেমেছে জেলা পুলিশ-প্রশাসন। বিভিন্ন এলাকার বাজি কারখানাগুলিতে অভিযান চলবে। এই কথাও জানানো হয়। সেই তল্লাশি অভিযানে পৃথক জায়গা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বেআইনি বাজি তৈরির বিপুল পরিমাণ মশলা।
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার নোদাখালি থানা মোহনপুর গ্রামের দাসপাড়া এবং প্রামাণিকপাড়ায় অভিযান চালায়। নোদাখালির দাসপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সৌম্যদীপ দাস নামে এক ব্যক্তিকে। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৬ কেজি বাজি তৈরির মশলা ও সরঞ্জাম। বজবজ থানার চিংড়িপোতা এলাকাতেও অভিযান চলে। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৪০ কেজি বাজি। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মহেশতলা থানার পুটখালি বলরামপুর এলাকাতেও অভিযান চলে। সেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছে ৬২ কেজি বাজি। ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে একজনকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধেই আলাদা আলাদাভাবে বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের এদিন আলিপুর আদালতে তোলা হয়। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, যে সমস্ত পুলিশ জেলার অধীনে এই সমস্ত বাজি শিল্প রয়েছে, সেসব এলাকায় এরকম ধরপাকড় এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে চলবে। পাথরপ্রতিমার বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় আটজন মারা গিয়েছেন। এখনও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে রয়েছে। থমথমে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন কারখানার দুই মালিক, সম্পর্কে দুই ভাই চন্দ্রকান্ত বণিক ও তুষার বণিক। গতকাল মঙ্গলবার চন্দ্রকান্তকে আটক করে পুলিশ। দিনভর জেরা করার পর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরজনের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।