শর্তসাপেক্ষে রাজ্যকে জল জীবন মিশনের অর্থ দিতে রাজি কেন্দ্র, প্রস্তুতি শুরু করেও আশঙ্কায় নবান্ন
প্রতিদিন | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিন আটকে রাখার পর শর্তসাপেক্ষে জল জীবন মিশন প্রকল্পের টাকা রাজ্যকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে ‘স্কিমভিত্তিক অর্থ’ দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে। কয়েক দিন আগেই নতুন নিয়ম সম্পর্কে রাজ্যকে লিখিতভাবে জানায় কেন্দ্র। সূত্রের খবর, সেই শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে নবান্ন। জলশক্তি মন্ত্রকের শর্তে বলা হয়েছে, প্রতিটি স্কিমের জন্য আলাদা আইডি নম্বর তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি স্কিমে আর্থিক সামঞ্জস্য বজায় রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্য কতটা খরচ করেছে, আর কেন্দ্রীয় বরাদ্দের মধ্যে কোনও অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না-টাকা ছাড়ার আগে জলশক্তি মন্ত্রক তা খতিয়ে দেখবে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই শর্তসাপেক্ষে টাকা ছাড়ার আশ্বাসের পর কাজ শুরু করে দিয়েছে নবান্নও। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সব এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে ইতিমধ্যে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দ্রুত আইডি নম্বর তৈরির কাজে নামতে। কেন্দ্রীয় পোর্টাল ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই ৫৫টি স্কিম আইডি তৈরি হয়েছে বলেও দফতর সূত্রের খবর। এর ফলে আগামী মাসেই কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মেলার সম্ভাবনা আছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে কেন্দ্রের এই আশ্বাস সত্ত্বেও অর্থ পাওয়া নিয়ে সন্দিহান নবান্নের শীর্ষকর্তাদের একাংশ। কারণ ১০০ দিনের কাজের ক্ষেত্রে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের এই প্রকল্প শুরু করে অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিলেও এখনও তা করা হয়নি। তাই নবান্নের আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, যতক্ষণ না বরাদ্দ অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ এ বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, “রাজ্য সরকার জল জীবন মিশনের নাম ‘জলস্বপ্ন’ করেছে- এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্র টাকা আটকে দেয়। পরে দিল্লির বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সেই শর্ত মানতে রাজি।”