• শীত পড়তেই ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী, নেপথ্যে কোন কারণ? খোঁজ নিল এই সময় অনলাইন
    এই সময় | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • মধ্যবিত্ত বাঙালির পাতে প্রায় নিয়মিত থাকে ডিম। ডিমসেদ্ধ, ডিমের পোচ, ওমলেট, ডিমের ঝোল— নানা পদে ব্রেকফাস্ট থেকে লাঞ্চ সবেতেই আছে সে। সেই ডিমের দাম ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। গত কয়েকদিনে বাড়তে বাড়তে প্রতি পিস ডিমের দাম (খুচরো বাজারে) দাঁড়িয়েছে ৮টাকা। কোথাও তারও বেশি। এই পরিস্থিতিতে স্কুলের মিড ডে মিলে সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার যে নির্দেশ, তা মানতে হিমশিম খেতে হচ্ছে স্কুলগুলিকে। ৩০টি ডিম থাকা ট্রে কিনলে নেওয়া হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০টাকা—সেটাও বেশি। শীত পড়তেই হঠাৎ করে ডিমের দাম বাড়ছে কেন?

    সাধারণত শীতকালে প্রতি বছরই ডিমের দাম একটু-আধটু বাড়ে। তবে এই প্রথম প্রতি পিস ডিমের দাম ৮ টাকা হয়েছে বলে স্বীকার করছেন খুচরো থেকে বড় ব্যবসায়ীরা। শহর থেকে জেলা, ক্রেতারা বলছেন, ‘সবজি থেকে মাছ-মাংস, সবকিছুর দামই লাগামছাড়া। একমাত্র ভরসা ছিল ডিম। কিন্তু সেটাও ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।’

    জুন মাসে বিধানসভা অধিবেশনে রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানিয়েছিলেন, ডিম, দুধ, মাংস উৎপাদনে দেশের মধ্যে এগিয়ে রাজ্য। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্যে ডিমের উৎপাদন ১ হাজার ৬২৩.৯ কোটি। দেশে ডিম উৎপাদনের গড় ৩.৭৮ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ডিম উৎপাদনের গড় ১৮.০৭ শতাংশ। রাজ্যে ডিম উৎপাদনে সেরা জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর। শুধু এই জেলায় দৈনিক গড়ে ডিম উৎপাদন হয় প্রায় ৫৪ লক্ষ। জেলায় বছরে ডিম উৎপাদন হয় গড়ে প্রায় ১৯৬ কোটি।

    পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি বলেন, ‘পাইকারি বাজারে বৃহস্পতিবার ডিমের দাম প্রতি পিস ৬টা ৮০ পয়সা। খুচরো বাজারে দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। খুব বেশি হলে ডিমের দাম সাড়ে ৭ টাকা হতে পারে।’ খুচরো ব্যবসায়ীদের উপরেই দোষ চাপাচ্ছে পোলট্রি ফেডারেশন। তাঁদের বক্তব্য, ‘ডিমের দাম যখন কমে যায়, আমরা ফার্ম থেকে ৪ টাকা, সাড়ে ৪ টাকা প্রতি পিস বিক্রি করি। তখনও খুচরো বাজারে ৬ টাকা, সাড়ে ৬ টাকায় ডিম বিক্রি হয়। এখন নানা কারণে উৎপাদন ব্যয় (প্রোডাকশন খরচ) বেড়ে যাওয়ায়, প্রতি পিস ডিম ৬ টাকা ৮০-৮৫ পয়সা হয়েছে। গোটা দেশেই দাম বেড়েছে।’ অন্য দিকে মেদিনীপুরের এক খুচরো বিক্রেতার বক্তব্য, ‘পাইকারি বাজারে ডিমের দাম প্রায় ৭ টাকা। সেখানে আমাদের হাতে কয়েক হাত ঘুরে পৌঁছয়। সেই কারণে আমাদের ডিম পিছু ৮ থেকে সাড়ে এত টাকা নিতেই হয়।’

    পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের অন্যতম সদস্য তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার প্রাক্তন সভাপতি অনাদি সাঁতরা জানাচ্ছেন, মুরগির খাবারের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে। কেজি প্রতি খাবারের দাম ৩ টাকা থেকে ১০ টাকা অবধি বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণে গোটা দেশে উৎপাদন খরচ ডিম প্রতি ৭৫ থেকে ৮০ পয়সা বেড়েছে।

    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্যতম বৃহৎ পোলট্রি ফার্মের কর্ণধার তথা মুরগির খাবারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী অনাদি বাবু বলেন, ‘যে সয়াবিনের খোল আমরা ৩০-৩২টাকা কেজি দরে কিনেছি, এখন তা হয়েছে ৩৭-৪০টাকা প্রতি কেজি। মহারাষ্ট্রে বন্যার কারণেই এতটা দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গেই দাম বেড়েছে বাদামের খোলেরও। এগুলি আসে গুজরাট ও রাজস্থান থেকে।’

    দাম বৃদ্ধির অন্য একটি কারণও জানাচ্ছেন অনেকে। শীতের সময়ে প্রতি বছরই বিহার-সহ গোটা দেশেই ডিমের চাহিদা বাড়ে। ফলে, বছরের অন্য সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে বাংলায় যে ডিমটা আসে, শীতের সময়ে তা থাকে না। ফলে চাহিদা অনুপাতে ডিমের জোগান একটু কম থাকে।’

    মদনমোহন এই সময় অনলাইন-কে বলেন, ‘জানুয়ারি পর্যন্ত ডিমের দাম একটু ওঠানামা করবে। খুব বেশি কমার সম্ভাবনা নেই। তবে পরে ধীরে ধীরে দাম কমে যাবে।’ আর সেজন্যই শীতের এই সময়টাতে খুচরো ব্যবসায়ীদের 'লাভ' একটু কম করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে রাজ্য পোলট্রি ফেডারেশনের তরফে।

    তথ্য সহায়তা: মণিরাজ ঘোষ

  • Link to this news (এই সময়)