• এসআইআরের কাজের চাপে স্কুলে অনুপস্থিত শিক্ষকরা, পড়ুয়াদের পড়াচ্ছেন মিড ডে মিলের রাঁধুনি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • স্কুলের শিক্ষকেরা ব্যস্ত এসআইআরের কাজে। কিন্তু স্কুল ছুটি দেওয়া যাবে না। অগত্যা স্কুলের মিডডে মিলের রাঁধুনিই ভরসা। রান্না ছেড়ে তিনিই এখন পড়ুয়াদের ক্লাস নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি দেখে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরা। এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের মৌসুনী দ্বীপের কুসুমতলা পশ্চিম অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।ওই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কম।

    শিক্ষক রয়েছেন তিন জন। সেই তিন জন শিক্ষককেই এখন বুথ স্তরের আধিকারিক বা বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই গুরুদায়িত্ব  পালন করতে গিয়ে স্কুলে উপস্থিত থাকতে পারছেন না শিক্ষকেরা। এইরকম পরিস্থিতিতে গত কয়েকদিন ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে বসে থেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল। পড়ুয়াদের অনুপস্থিতির হার দিন দিন বাড়ছিল।

    Advertisement

    সেই কারণে গত কয়েকদিন মিড-ডে মিলও বন্ধ ছিল। এই অবস্থায় স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন মিড-ডে মিল রাঁধুনি। তাঁর নাম অনুমতি মণ্ডল। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানশিক্ষক যা বলেছেন, আমি সেই অনুযায়ী কাজ করছি। উনি বলেছেন, স্কুল ছুটি দেওয়া যাবে না। অন্য দিকে, কোনও দিন মিড-ডে মিল রান্না হচ্ছে, কোনও দিন রান্না হচ্ছে না। বাচ্চারা স্কুলে এসে শুধু হইহল্লা করছে। তাই যেটুকু জানি, সেটুকু কাজে লাগিয়েই ওদের পড়াচ্ছি।’’

    অভিভাবকেরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, তাঁরা গ্রামে থাকেন বলে কী তাঁদের সন্তানরা সঠিকভাবে পড়াশুনোর সুযোগ পাবে না? প্রতিমা মণ্ডল নামে এক অভিভাবিকা বলেছেন, ‘বাচ্চারা স্কুলে গেলেও লেখাপড়া   হচ্ছে না। মিড-ডে মিলের রাঁধুনি ক্লাস নিচ্ছেন। এ ভাবে চলতে থাকলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।‘  করুণা মণ্ডল ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন যে, সামনেই ছাত্রছাত্রীদের ফাইনাল পরীক্ষা। শিক্ষকরা এসআইআরের কাজ করছেন। তা হলে বাচ্চাদের লেখাপড়া কী করে হবে?’

    উল্লেখ্য, এসআইআরের কাজ পুরোদমে চলার ফলে অনেক প্রাথমিক স্কুলেরই এইরকম অবস্থা। কোনো কোনো স্কুলের সব শিক্ষকদের বিএলওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই কাজের চাপে তাঁরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন। অনেকেই মনে করছেন এক্ষেত্রে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা দরকার।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)