২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকলেও পিছু ছাড়ছিল না ‘SIR আতঙ্ক’, ভাতারে ‘আত্মঘাতী’ মহিলা
প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ধীমান রায়, কাটোয়া: SIR আতঙ্কে ফের মৃত্যু বাংলায়! গায়ে আগুন দিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হলেন এক মহিলা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ভূমশোর গ্রামে। মৃতার নাম মুস্তরা খাতুন কাজি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী ওই পরিবারের বাড়িতে গিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বলে খবর। তাঁর নির্দেশে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ ওই পরিবারের বাড়িতে এদিন সন্ধ্যায় যাবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝবয়সী ওই মহিলা অবিবাহিত ছিলেন। বাপেরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তিনি থাকতেন। গতকাল, শুক্রবার রাতে তিনি নিজের গায়ে আগুন দেন বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা রাতেই বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত ভাতার ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। যদিও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় ভাতার থানায়। পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মুস্তরা খাতুন কাজির বাবা-মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। অন্যান্যদের বিয়ে হয়ে গেলেও মুস্তরা খাতুন কাজি অবিবাহিত ছিলেন। দাদা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই মহিলা আতঙ্কিত হয়েছিলেন। যদিও পরিবারের সদস্য ও তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। কোনওরকম সমস্যায় ওই পরিবারকে পড়তে হবে না, সেই কথাও বলা হয়েছিল। তবুও তাঁর আতঙ্ক কমছিল না। সেই অবস্থায় গতকাল, শুক্রবার তিনি এসআইআর ফর্মও জমা দিয়েছিলেন। পরিবারের তরফে অভিযোগ, তারপরও তাঁর আতঙ্ক পিছু ছাড়ছিল না। রাতে তিনি সকলের অলক্ষ্যে গায়ে আগুন দেন!
ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সাইদুল হক জানিয়েছেন, তাঁর কোনও ভয় নেই, সেই কথা বোঝানো হয়েছিল। তারপরও আতঙ্ক কমেনি ওই মহিলার। সেই আতঙ্কেই গতকাল রাতে তিনি গায়ে আগুন দেন। তবে সাইদুল হকের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অপরিকল্পিতভাবে এই এসআইআর করার জন্য এমন ঘটনা ঘটল। এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী আজ, শনিবার মৃতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ভাতার থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।