• নামবদল! আর ‘রাজ’ নয় এ বার থেকে ‘লোকভবন’, জারি বিজ্ঞপ্তি
    এই সময় | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • এই সময়: ‘ইন্ডিয়া শুড বি গভার্নড ফ্রম ও প্যালেস, নট ফ্রম আ কান্ট্রি হাউজ়।’ এ কথা বলেছিলেন মার্কুয়েস ওয়েলেসলি। সালটা ছিল ১৭৯৯। ভারতের বড়লাট অর্থাৎ গভর্নর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া ওয়েলেসলির নির্দেশে শুরু হয় নতুন প্যালেস তৈরির কাজ।

    বাড়ির নকশার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ডের ডার্বিশায়ারের ঐতিহ্যাবাহী প্যালেস কেডলস্টন হল-এর মডেল। বাড়ি তৈরি শেষ হয় ১৮০৩ সালে। আর তার ঠিক ১০০ বছর পরে বড়লাট হয়ে এই ‘গভর্নর হাউজ়’-এর বাসিন্দা হলেন লর্ড কার্জন। যে কেডলস্টন হল-এর আদলে এই প্যালেস তৈরি হয়েছিল, সেটি ছিল এই কার্জনের পৈতৃক আবাস।

    কলকাতার রাজভবন এমন বহু ইতিহাস আর গল্পের সাক্ষী। সেই ঐতিহাসিক ভবনের নাম থেকে শনিবার থেকে বাদ গেল ‘রাজ’ শব্দটির। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশক্রমে এ দিন থেকে রাজ্যপালের আবাস লোকভবন। কলকাতা এবং দার্জিলিং— ভবনের নাম বদল হলো দু’জায়গাতেই। এই নাম বদল নিয়ে এ দিন তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

    রাজ্যপালের দফতর থেকে শনিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সঙ্গে একটি ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস নিজেই ‘ভবন’-এর আগের তিন অক্ষর ‘রাজ’ শব্দটি খুলে ফেলছেন। তার পর সেই জায়গায় নতুন তিনটি অক্ষর ‘লোক’ বসাচ্ছেন।

    রাজভবনের নাম পরিবর্তন করার নির্দেশ কয়েক দিন আগেই এসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে। গত ২৫ নভেম্বর নির্দেশ আসার পর শনিবার সারা দেশের মধ্যে বাংলায় তা কার্যকর করা হল। সারা দেশে সর্বত্রই ধীরে ধীরে তা কার্যকর হবে।

    নাম বদলের বার্তা দিয়ে সমাজমাধ্যমে রাজ্যপাল বোস লিখেছেন, ‘২০২৩ সালের ২৭ মার্চ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্যপালের অনুরোধে তৎকালীন রাজভবনের প্রতীকী চাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেটা ছিল জনরাজভবনের নতুন যুগের সূচনা।

    জনগণের চাহিদা, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যার কথা মাথায় রেখেই ‘জনরাজভবন’ ভাবনাটি আনা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে জীবন্ত করে তুলতে এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে উদ্দেশ্য ছিল, এই ভবনকে সকল স্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া।’ রাজভবনের যে সরকারি ওয়েবসাইট ছিল, এ দিন সন্ধ্যা থেকে তারও নামে বদল এসেছে।

    ২৭ একর জমির উপর তৈরি বাগান ঘেরা রাজভবনের ফ্লোরের মাপ ৮৪ হাজার বর্গফুট। মোট ৯০টি ঘর রয়েছে। ১৮০৩ সালে যখন কাজ শেষ হয়, দেখা যায় মোট খরচ হয়েছে ৬৩ হাজার ৩০০ পাউন্ড। টাকার অঙ্কে ১৩ লক্ষ। এই প্যালেসে বাস করার ইচ্ছা এতটাই বেশি ছিল যে, কারিগরেরা বিদায় নেওয়াকর আগেই ওয়েলেসলি এখানে বসবাস শুরু করে দিয়েছিলেন।

    অথচ এই রাজভবন তৈরিতে অর্থ নয়ছয়ের দায়েই চাকরি গিয়েছিল ওয়েলেসলি। তাঁকে ইংল্যান্ডে ফেরানো হয়েছিল। ১৯৫৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অবসান হলে গভর্নর হাউজ়-এর পরিবর্তে এর নাম হয় গভর্নমেন্ট হাউজ। সারা ভারতের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ছিল এটি।

    এই তিনতলা ভবনটির কেন্দ্রে রয়েছে বিশাল হল নিয়ে গঠিত একটি চমৎকার এলাকা। এর চারদিকে রয়েছে বাঁকানো বারান্দা, যা চারটি বিচ্ছিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত এবং প্রতিটি শাখাই স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বাড়ির মতো। দেশের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে, ১৯১২ সাল পর্যন্ত, তেইশ জন গভর্নর-জেনারেল এবং পরবর্তীকালে ভাইসরয় এই ভবনের বাসিন্দা হয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)