দিঘার জগন্নাথ ধামে মাত্র ৬ মাসে রাজস্ব উঠল ১০০ কোটি টাকা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলার মানচিত্রে সৈকত শহর হিসেবে পরিচিত দিঘা। সারা বছরই পর্যটকদের আনা-গোনা লেগে থাকে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দিঘায় জগন্নথ মন্দির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘায় পর্যটকদের ভিড় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। যার জেরে সৈকতনগরীর আর্থ-সামাজিক অবস্থানই আমূল বদলে গেছে। প্রতি মাসেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে এই সৈকতনগরী। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি ভক্তের সমাগম হয়েছে দিঘায়।
গত ৬ মাসে দিঘা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব উঠেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন দপ্তরের এক সচিব। তার আগের এক বছরে রাজস্ব উঠেছিল ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে তা একলাফে দ্বিগুণ বেড়েছে। দিঘায় পর্যটকরা য়দি এই সংখ্যায় আসতে থাকে তাহলে আগামী দিনে ব্যবসার অঙ্ক আরও বাড়বে বলে আশা করছে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর। হোটেল, দোকান, গাইড ফি এবং অন্যান্য বিভিন্ন খরচ করে থাকেন পর্যটকরা। ২০২৬ মার্চ মাসের মধ্যে এই সমস্ত ক্ষেত্রে পর্যটকদের খরচের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এক বছরে ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা।
Advertisement
সমুদ্র তীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও অল্প সময়ের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছে দিঘা। দিঘার জগন্নাথ মন্দির দেখতে ভিড় জমিয়েছেন ৯০ লক্ষ ভক্ত। রোজ প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী মন্দিরে আসেন। পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘মন্দির উদ্বোধনের পরে থেকে ভক্তদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। উৎসবের সময়ে এই ভিড় চরমে উঠছে। মাত্র ৬ মাসেই প্রায় ৯০ লক্ষ ভক্ত এসেছেন।’
দিঘার মন্দিরের রোজ প্রায় ৪ লক্ষ টাকা রোজগার হয়। ডোনেশন বাক্স থেকে ১ লক্ষ টাকা, ট্রাস্টের উপহার ও ডোনেশন পড়ে প্রায় ১ লক্ষ টাকা এবং ভোগ ও প্রসাদ বিক্রি করে রোজ ওঠে ২ লক্ষ টাকা। এর পাশাপাশি এই মন্দির কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা নিয়েছে। মন্দিরে নিরাপত্তা, হাউস কিপিং, মন্দির পরিষ্কারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১৭০ জন কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।