• ভুয়ো লটারির খোঁজে CID অভিযান বর্ধমানে, ধৃত ১
    এই সময় | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • এই সময়, বর্ধমান: বিভিন্ন জেলায় ভুয়ো লটারির কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশ। কিছু দিন আগেই রায়না এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডি গ্রেপ্তার করেছিল এমন দু'জনকে। শনিবার সকালে জামালপুর থানা এলাকার দক্ষিণসুরা কালীতলা এলাকা থেকে লালন শাহ নামে আর এক বিক্রেতাকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করল সিআইডি।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকার ভুয়ো লটারির টিকিট বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি। আরও জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো লটারির টিকিট বিক্রির পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় এর টিকিট সাপ্লাইয়ের ব্যবসা চালিয়ে এসেছে লালন। বাস্তবে লটারির মাধ্যমে বিনা পরিশ্রমে মোটা টাকা পাওয়ার লোভে এই ভুয়ো টিকিট কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গরিব মানুষ।

    একইসঙ্গে বর্ধমান-সহ শহর জুড়ে রমরমিয়ে বেড়েছে পেন্সিল লটারি বিক্রেতাদেরও দাপট। তাতেও নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন গরিব খেটে খাওয়া মানুষজন। বর্ধমানের মেহেদিবাগানের বাসিন্দা আফরিনা বিবি বললেন, 'আগে ছিল চোলাই মদ। এখন শুরু হয়েছে পেন্সিল লটারি। সারা দিন কাজ করে বাড়ি ফেরার আগে লটারি খেলছে, সব টাকা সেখানে হেরে বাড়ি ফিরছে। আর কোনও দিন কপাল জোরে জিতে গেলে মদ খেয়ে ফুর্তি করে সেই টাকা ওড়াচ্ছে স্বামীরা।' একরাশ খেদের সঙ্গে তিনি আরও বললেন, 'আমরা লোকের বাড়িতে, হোটেলে কাজ করে কোনও ভাবে সংসার চালাচ্ছি। পুলিশ-প্রশাসনের সামনেই এ সব চলছে, কেউ নজর দেয় না।' উল্লেখ্য, এই লটারিতে ক্রেতার পছন্দের টিকিটের নম্বর পেন্সিল দিয়ে লিখে রাখা হয়।

    সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা, বর্ধমান শহরের বিসি রোড, বড়বাজার, বড়নীলপুর, সুকান্তপল্লি ও হাসপাতাল এলাকায় রমরমিয়ে চলছে এই কারবার। কোথাও চলছে প্রকাশ্যে, কোথাও কোনও গুমটির আড়ালে। পুলিশের নজরে এই সব বেআইনি কারবার পড়ে না কেন, প্রশ্ন সেটাই।

  • Link to this news (এই সময়)