• এক বছরেও অধরা জোড়া খুনে অভিযুক্ত, প্রণব–আতঙ্ক কাটাতে নিজেদের পয়সায় CCTV গ্রামবাসীদের
    এই সময় | ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • এই সময়, কোচবিহার: ধরা না পড়ায় এক বছরেও প্রণব–আতঙ্ক কাটেনি কোচবিহারের ডাউয়াগুড়ির বৈশ্য পাড়ায়। কখনও রাতের অন্ধকারে প্রণবকে দেখা গিয়েছে, কখনও আবার প্রণব বাড়িতে এসেছিল, এই ধরনের খবর মাঝে মধ্যেই চাউর হচ্ছে। এরই মধ্যে একদিন ওই বাড়িতে আলো জ্বলতে দেখা যায়। যা নিয়ে আরও আতঙ্ক ছড়ায়। পরে দেখা যায়, কেউ বা কারা দরজা ভেঙে ঢুকে ইলেকট্রিক মোটর নিয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাঁদা তুলে বাঁশের বেড়া লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ২৪ ঘণ্টাই বাড়ির সামনে আলো জ্বালানো থাকছে। প্রণব–আতঙ্ক দূর করতে এ বার সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন গ্রামবাসীরা।

    গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর কোচবিহারের ডাউয়াগুড়িতে বৈশ্য পাড়া থেকে দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মূল অভিযুক্ত বছর ত্রিশের প্রণব বৈশ্য বাবা বিজয়কুমার বৈশ্য ( ৬৫) ও পিসতুতো দাদা গোপাল রায়কে (৪৫) খুন করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। হাড়হিম করা সেই ঘটনায় ঘর থেকে উদ্ধার হয় বাবার দেহ। সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছিল দাদার দেহ। ঘটনার পরে এক বছর হতে চললেও কোতোয়ালি থানার পুলিশ এখনও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সে ভিন রাজ্যে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে অনুমান। তাকে ধরতে ভিন রাজ্যে পুলিশের টিম গেলেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। ওই ঘটনার পরে প্রণবদের বাড়ি তালাবন্ধ অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। বাড়ির চারপাশে জঙ্গলে ভরে গিয়েছে। একাধিক ধানি জমি, কলাবাগান–সহ লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পত্তি পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

    গ্রামের বাসিন্দা ভাস্কর বৈশ্য বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ওদের আত্মীয়-স্বজন এই বাড়ি দেখাশোনা করলে ভালো হতো। সকলের মধ্যেই আতঙ্ক এবং ভয় রয়েছে। প্রণব এসেছিল। তাকে দেখা গিয়েছে। মাঝেমধ্যেই এ ধরনের খবর রটছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘ওই বাড়ির সামনে একটি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে প্রণব এলে ধরা পড়বে।’ কোচবিহার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিযুক্তের খোঁজ চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)