• বাংলাদেশি সন্দেহে ওডিশায় মেদিনীপুরের যুবককে মারধরের অভিযোগ, আতঙ্কে কাঁটা MA পাশ যুবক
    এই সময় | ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • বাংলাদেশি সন্দেহে প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশায় এক বাংলার যুবককে মারধরের অভিযোগ। আরশেদ মল্লিক নামে বছর ৩৫-এর ওই যুবক কেশপুর ব্লকের কলাগ্রাম অঞ্চলের গোপীনাথবাটি গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার বাড়ি ফিরে এসেছেন ওই যুবক। জানা গিয়েছে, তিনি MA পাশ। কিন্তু চাকরি না পাওয়ায় ওডিশায় ফেরিওয়ালার কাজ করতেন তিনি। তাঁর অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। 

    আরশেদ বছর পাঁচেক আগে ওডিশার কেন্দ্রপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে থাকতেন আরও দুই জন। বাইকে করে বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেরি করতেন আরশেদ ও তাঁর সঙ্গীরা। সম্প্রতি বাংলাদেশে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পুড়িয়ে মারার খবর সামনে আসার পরে ওডিশায় কাজ করতে সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেন আরশেদের সঙ্গীরা এবং তাঁরা বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও সেখানে থেকে যান আরশেদ। গত  শুক্রবার সকালে কেন্দ্রপড়া থেকে বাইকে করে মালপত্র নিয়ে ভদ্রকে গিয়েছিলেন তিনি। সকাল ৮টা নাগাদ ভদ্রকের চরম্পা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় চা খাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ে বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁর উপরে চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী এবং নির্যাতন শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ভদ্রক গ্রামীণ থানার পুলিশ আরশেদকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। থানা থেকেই গোটা বিষয়টি এই যুবকের পরিবারকে জানানো হয়। তাঁর পরিবারের তরফে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। 

    স্থানীয় অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি যোগাযোগ করেন কেশপুরের বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহার সঙ্গে। তিনি যোগাযোগ করেন নবান্ন ও জেলা পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে। এর পরে জেলা পুলিশ সুপার পলাশচন্দ্র ঢালি ওডিশা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আরশেদকে ফিরিয়ে আনার বন্দোবস্ত করেন। 

    রবিবার সন্ধ্যায় ‘এই সময় অনলাইন’-কে ফোনে আরশেদ বলেন, ‘আমি MA পাশ করেছি। এখানে কোনও কাজ না পেয়ে ওডিশায় গিয়েছিলাম। গত পাঁচ বছরে সেখানে কখনও এই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়নি।’ ঘটনাটি প্রসঙ্গে মন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন, ‘শুক্রবার খবর পেয়েই আমি নবান্নে যোগাযোগ করি। জেলা পুলিশ-প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করেছে।’ ওডিশা পুলিশ এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করুক, এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। যদিও মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি-র সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সবাই সুরক্ষিত। ওডিশার ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)