• ‘কলকাতার ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনই চাই’, মহানগরের জন্য আলাদা টার্গেট বেঁধে দিলেন শাহ
    এই সময় | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • প্রীতিশ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বৃহত্তর কলকাতার ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনই চাই, মহানগরে বসেই দলের নেতাদের টার্গেট বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটরিয়ামে কলকাতার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন শাহ। এই বৈঠক থেকে একদিকে যেমন সাংসদ-বিধায়কদের ভোটের আগে পেপটক দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, একই সঙ্গে দলের সমস্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নেই’। এই মঞ্চ থেকেই কলকাতার জন্য বিশেষ টার্গেটও ঠিক করে দেন তিনি। মহানগরের ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনই জিততে হবে, সেই লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন।

    ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট দোরগোড়ায়। সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বাংলায় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবারের পরে বুধবারও দলীয় নেতা, কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দলের সাংসদ, বিধায়কদের সঙ্গে সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে বিশেষ বৈঠক করেন।

    এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কলকাতার বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘কলকাতায় আমাদের যে চারটে সাংগঠনিক জেলা রয়েছে, সেই চারটে জেলায় ২৮টি আসন রয়েছে। ২৮টির মধ্যে ২০-এর বেশি সিট বিজেপিকে জিততে হবে। উনি চান, জয়টা সম্পূর্ণ হোক। আমরা জেলায় জেলায় তো জিতবই। এ জয় শুধু বাংলার সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, সারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

    রাহুলের দাবি, বৈঠকে শাহ এও জানিয়েছেন, ত্রিপুরায় সমস্ত বর্ডার সিল করা। সেখান থেকে বাংলাদেশিরা ঢুকতে পারেন না। অসমেও একই পরিস্থিতি। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গে ৩৮০ কিলোমিটার জায়গা, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস বেড়া (কাঁটাতার) দিতে দিচ্ছে না, সেখান থেকেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে। শুধু বাংলায় নয়, সেখান থেকে গোটা দেশে অনুপ্রবেশকারীরা ছেয়ে যাচ্ছে। বাংলার নিরাপত্তার পাশাপাশি সারা দেশের নিরাপত্তায় এই অনুপ্রবেশ রুখতে হবে বলে বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এ বারের বাংলা দখলের লড়াইয়ে বিজেপি মূলত দু’টি ইস্যুকে হাতিয়ার করতে চাইছে— এক, অনুপ্রবেশ, অন্যটি দুর্নীতি। সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে শাহ স্পষ্ট বলেন, কলকাতা নিরাপদ নয়। অনুপ্রবেশের দাপট বাড়ছে। একটা সময়ের পরে এখানকার মানুষই বিপদে পড়বেন। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করতেই হবে, এমনই বার্তা দেন শাহ।

    প্রত্যেক বিজেপি কর্মী যাতে আরও বেশি করে একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, নিজেদের মধ্যে আরও বেশি করে সমন্বয় রেখে কাজ করেন, তা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভোটের ময়দানে সকলকে আরও বেশি করে সক্রিয় হওয়ার বার্তাও দেন শাহ।

    অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এ দিন আলাদা ভাবে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল, বিপ্লব দেব। রাজ্যের চার মুখকে এক যোগে বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগাতে মরিয়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বহু দিন পরে এ দিন দিলীপ ঘোষকে বিজেপির কোনও বৈঠকে দেখা গেল। যদিও এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে এ নিয়ে কিছুই বলতে চাননি তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)