• ২০১০ সালের পরের OBC সার্টিফিকেট চলবে না SIR-এ, জানিয়ে দিল কমিশন
    এই সময় | ০১ জানুয়ারি ২০২৬
  • কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া কোনও ওবিসি সার্টিফিকেট SIR-এর কাজে ব্যবহার করা যাবে না, জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজ্যে ওবিসি তালিকাভুক্ত জনজাতিরাই তাঁদের শংসাপত্র দাখিল করতে পারবেন SIR-এর শুনানিতে। পরবর্তীকালে রাজ্য সরকার যে ১১৩টি জনজাতিকে এই তালিকাভুক্ত করেছে তাঁদের শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত দেওয়া সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে হাইকোর্ট। ওই সব সার্টিফিকেট SIR-এর কাজে ব্যবহার নয়, জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO)-দের এমনই জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

    ২০১০ সালের পর থেকে যাঁদের ওবিসি-তে নথিভুক্ত করা হয়েছে, গত বছরই তাঁদের শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাদেরই গ্রহণযোগ্যতায় সিলমোহর দিয়েছিল কোর্ট।

    এ দিকে রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR-এ যে ১১টি নথিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে ওবিসি সার্টিফিকেটও। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও হয়। ২০১০–এর মার্চের পর থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যত ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করার দাবিতে মামলা হয়।

    উল্লেখ্য, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়ে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যের সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করার কথা বলা হলেও সেই রায় স্থগিত রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেখানে মামলা চলছে। ফলে, সেই নথি যাতে ‘SIR’–এ গ্রাহ্য না–করা হয়, তার জন্য কমিশনে আবেদন করেন মামলাকারী। কিন্তু তাতে কাজ না–হওয়ায় হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

    কলকাতা হাইকোর্ট গত সপ্তাহেই জানিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল আমলে যাঁদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের শংসাপত্র ‘SIR’–এ গ্রাহ্য হবে কি না, তা কমিশন ঠিক করবে। সরকার যে সব জনজাতিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল তা কলকাতা হাইকোর্ট বাতিল করে দিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিলেও মূল মামলা এখনও চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)