• ‘ভিড় জাহাজ থেকে চুপ করে নেমে গিয়েছি অনেক আগেই...’, নতুন বছরে কোন শপথ নিলেন কৌশিক?
    এই সময় | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • নতুন বছরের প্রথম দিন। একরাশ স্বপ্ন নিয়েই শুরু করেন সকলে। ফেলে আসা দিনের পাওয়া, না পাওয়ার মুহূর্ত কাটিয়ে নতুন করে পথচলা। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছেও ঠিক তেমনই। বহু হিট টু সুপারহিট সিনেমা বরাবরই ইন্ডাস্ট্রিকে উপহার দিয়েছেন তিনি। তবে একসঙ্গে একঝাঁক ছবি মুক্তির তালিকায় বহুদিন নেই তাঁর নাম। নতুন বছরে তাই খানিক নয়া শপথ পরিচালকের।

    পরিচালকের কথায়, ‘আমি ভিড় জাহাজ থেকে চুপ করে নেমে গিয়েছি অনেকদিন আগেই। তবে খরস্রোতা জলের টান আমার রক্তে। ভাসতে হবেই, যতক্ষণ… যতদিন। তাই নিজের একটা নৌকো বানিয়ে রওনা দিয়েছি স্বজনদের নিয়ে। প্রিয়জনেরা ভালোবেসে আপ্রাণ দাঁড় টানছে, আর আমি হালে পানি পেলেই গন্তব্যের দিক বজায় রাখছি।’

    ২০২৫ সালে কোনও ছবি মুক্তি পায়নি কৌশিকের। ভক্তেরাও মুখিয়ে নতুন বছরের দিকে। কী উপহার দেন পরিচালক। এই মুহূর্তে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত পরিচালক। তাই ২০২৫-এর ঘাট পাশ দিয়ে পিছিয়ে গেলেও, ২৬-এর দু’কূল জুড়ে গল্প খোঁজার ও বলার আশায় কৌশিক ও তাঁর পরিবার। তাঁর কথায়, ‘শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবন ও দর্শকদের বিনোদনের বার বার সুযোগ পাওয়া, এর বাইরে আর কোনও চাহিদা নেই। আমাদের এই নৌকো স্বাধীন, সহজ, আপন ও মৌলিক। জোয়ার ভাটা সামলে নিজের গতিতে আমরা ঠিক পেরিয়ে যেতে থাকব পর পর সময় বাঁধানো ঘাটগুলো। ছোট ছোট জীবন, না খেয়াল করা চরিত্র বা কল্পনার অজানা জগতের গল্পের মধ্যে দিয়ে আজকের সামাজিক উচ্চারণ যেন বার বার স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেটাই লক্ষ্য।’

    হল পাওয়ার লড়াই, ছবির বক্স অফিস কালেকশন, কার সিনেমা এগিয়ে, কার পিছিয়ে এই সব কিছুর ঊর্ধ্বে সিনেমার গল্প। মানুষের আবেগে আর আশ্রয়ে বড় হয় যে কোনও শিল্প। কৌশিকের কথায়, ‘জীবনী তো ছাপার অক্ষরেও পড়া যায়, কিন্তু জীবনের গল্প নাটকে বা সিনেমার পর্দায় উপলব্ধির রূপ নেয়। সেখানেই দর্শকের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা পূরণ হয়। লঘু সঙ্গীত ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মতো সিনেমায়ও লঘু ও গুরু আঙ্গিকের সহাবস্থান খুব জরুরি। চলচ্চিত্রের দর্শক গ্রাম থেকে শহরে আরও জেগে উঠুক। সেই ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব নির্মাতারা সবাই সবার মতো আন্তরিক ভাবে পালন করলেই ঠিক হবে। আমার উপলব্ধি, কোনও শিল্পকেই জবরদস্তি জনপ্রিয় করা যায় না। শিল্প আপনিই জনপ্রিয় হয়ে যায় মানুষের আবেগে ও আশ্রয়ে। তেমনই ইতিহাসও জোর করে মনমতো ভাবে লেখা যায় না। স্থায়ী ইতিহাস ঘটে যেতে থাকে চোখের আড়ালে, অজান্তেই।’
  • Link to this news (এই সময়)