• বাংলায় আর ডাক্তারি করবেন না? 'বিদ্রোহী' অনিকেত ছাড়ছেন... ৩০ লাখ ফেরাতে চাইলেন সাহায্যও...
    ২৪ ঘন্টা | ০২ জানুয়ারি ২০২৬
  • পিয়ালি মিত্র: আরজি কর আন্দোলনে নয়া মোড়। বাংলায় আর ডাক্তারি-ই করবেন না অনিকেত মাহাতো? জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফার পর এবার এসআরশিপ (সিনিয়র রেসিডেন্সি)-ও ছাড়ছেন আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো! সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানালেন 'বিদ্রোহী' অনিকেত!

    সাংবাদিক বৈঠক করে অনিকেত বলেন, "৯ অগস্ট থেকে লড়াই শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেই লড়াই সমর্থন করেছিল। লড়াইয়ের জন‍্যই সন্দীপ ঘোষ, আশিস পান্ডেরা জেলে। আমাদের দাবি মেনে তত‍্যকালীন সিপি সহ বেশ কিছু আধিকারিককে অপসারণও করা হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে কিছু বক্তব্য রাখি, তাতে ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীকালে মেরিটের বাইরে গিয়ে আমার বদলি করা হয়। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তা করা হয়। এরপর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অর্ডার দেয়। ডিভিশন বেঞ্চও একই নির্দেশে দেয়। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সুপ্রিম কোর্টও বলে, ১৪ দিনের মধ্যে পোস্টিং দিতে হবে। কিন্তু তারপরেও এখনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চলছে। এখনও পোস্টিং অর্ডার পাইনি। আরজিকরে পোস্টিং দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও অমান্য করা হচ্ছে।" 

    অনিকেতের দাবি, "আন্দোলন করলেই, যারা থ্রেট কালচার, দুর্নীতি, তদন্তে গাফিলতি নিয়ে কথা বলবে, তাদের সঙ্গেই এভাবে ব‍্যবহার করা হবে।" এরপরই অনিকেত সিনিয়র রেসিডেন্সিয়ালশিপ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। অনিকেত তোপ দাগেন, " দীর্ঘ ৮ মাস ধরে আমার ডাক্তারি জীবনকে সরকার মার্ডার করছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই সরকারের আমলে এসআরশিপ (সিনিয়র রেসিডেন্সি) করা থেকে সরে আসব। কারণ তাদের আমলে কাজ করতে পারব না। তাই এসআরশিপ পোস্টিং জায়গা থেকে সরে আসছি।" 

    এখন এসআরশিপ ছাড়তে গেলে সরকারকে বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হয়। এই বিশাল অঙ্কের টাকা মেটানোর জন‍্য তিনি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি চাইলে জুনিয়র ফ্রন্টও তাঁকে সাহায্য করতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনিকেত বলেন, 'এসআরশিপ থেকে বেরিয়ে আসতে গেলে সরকারকে বন্ডের ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হয় । সেটার জন‍্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার আবেদন জানাচ্ছি।জুনিয়র ফ্রন্ট যদি সাহায্য করতে চায় করতে পারে। এটা আমার ব‍্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।'

    তবে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে ইস্তফা দিলেও ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি থাকবেন বলে জানান। একইসঙ্গে স্পষ্ট করে দেন যে, WBJF-এর লড়াই ঐতিহাসিক। সেখানে কোনও গাফিলতি নেই। অনিকেত বলেন,'অতীত দ্বিমত হয়েছে। কিন্তু সেটার সমাধান হয়েছে। এখন কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই দ্বিমতের জায়গা থেকে বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি দুর্নীতি নিয়ে লড়াই হয়, থ্রেট কালচার নিয়ে আন্দোলন হয়, তাতে নিশ্চয় থাকব। WBJF-এর লড়াই ঐতিহাসিক। প্রত‍্যকে লড়েছে। মনে করি না তা কোনও পরিহাস করেছে। কোনও গাফিলতি করেছে।' একইসঙ্গে অনিকেত স্পষ্ট করে দেন, তাঁর এই ইস্তফার সিদ্ধান্তের পিছনে ব‍্যক্তি স্বার্থের কোনও বিষয় নেই।

    উল্লেখ্য, জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে অনিকেত মাহাতো ইস্তফা দেওয়ার পরই নয়া মাত্রা পেয়েছে আরজি কর আন্দোলন। ইতিমধ্যেই পালটা তোপ দেগেছেন অভয়া আন্দোলনের আরেক মুখ আসফাকুল্লা নাইয়া। আসফাকুল্লা নাইয়ার কথায়, 'অনিকেত একা নেতা হতে পারে না। বাকিরা তো রয়েছে, তারাও লড়াই করেছে অভয়ার ন্যায় বিচারে!'

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)