• অন্য বুথের ভোটারের ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় ফাঁস! বিএলও-কে জুতোপেটার অভিযোগ
    প্রতিদিন | ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুমন করাতি, হুগলি: পাশের বুথের ভোটার ‘বাংলাদেশি’। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এসআইআরে (SIR in Bengal) এনুমারেশন ফর্ম ফিল আপ করেছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে সোজা বিডিওর কাছে নালিশ জানিয়েছিলেন অন্য বুথের বিএলও। ডানকুনির এই ঘটনার জেরে তাঁকে জুতোপেটা করা হল! ঘটনা গিরে ধুন্ধুমার ডানকুনির ৬ নং বুথ এলাকা। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর দু’পক্ষকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করলেও বিএলও নাকি সহযোগিতা করেননি বলে পালটা অভিযোগ ওঠে। ডানকুনি থানায় এনিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    ঘটনা ঠিক কী ঘটেছে? জানা গিয়েছে, ডানকুনির ৫ নম্বর বুথের বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা। তাঁর অভিযোগ, পাশের ৬ নম্বর বুথের ভোটার আবদুল রহিম গাজি একজন বাংলাদেশি। সেকথা তিনি ওই বুথের বিএলও এবং গোটা এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ার সুপারভাইজার বিডিও-কেও জানিয়ে দেন। এরপরই বিপদে পড়েন বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা। তাঁর অভিযোগ, গাজির ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় ফাঁস হওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি ওই বিএলও-র উপর চড়াও হন। তাঁকে জুতোপেটা, ঘুসি মারা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সেই অশান্তি থামিয়েছেন।

    এরপর ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ আসরাফ হোসেন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। দু’পক্ষকে ডেকে কথা বলতে চান। কিন্তু বিএলও বিমলি টুডু হাঁসদা সেই ডাকে সাড়া দেননি বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর। তিনি ডানকুনি থানায় অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে বিএলও-র দাবি, ”আবদুল রহিম গাজির নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। ওরা বর্ধমান থেকে কিছু মিথ্যা প্রমাণ জোগাড় করে, কাউকে একটা বাবা-মা সাজিয়ে এসআইআরের ফর্ম ফিলআপ করেছে। আমি সেটা বিডিও ম্যাডামকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। তাই আমার উপর গাজি চড়াও হয়। গালে জুতো দিয়ে মারে, ঘুসি মারে। পাড়া প্রতিবেশী না থাকলে আমার কী হতো কে জানে! ওরাই আমাকে বলল যে বিষয়টা থানায় জানাতে।”

    এদিকে গাজির স্ত্রী রানির দাবি, বিমলির সঙ্গে তিনি একটি নার্সিংহোম কাজ করেন। সেই কাজ নিয়ে দু’জনের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তাই এই অভিযোগ। তাঁরা কোনওভাবেই বিএলও-কে মারধোর করেননি বলেই দাবি। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর শেখ আসরাফ হোসেনের কথায়, ”কে বাংলাদেশি, কে ভারতীয়, সেটা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কোনও বিএলও নিজে থেকে কাউকে এটা বলতে পারে না। আর তাছাড়া ওঁর (বিমলি টুডু হাঁসদা) বিরুদ্ধে অভিযোগ যে উনি নাকি বাড়ির মেয়েদের ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে কাজে লাগাচ্ছেন। তাহলে সেটা নিয়ে ওইসব বাড়ির লোকজন প্রশ্ন করবে না? তাহলেই মারধরের অভিযোগ তোলা হবে?” তবে আপাতত বিষয়টি পুলিশের তদন্তাধীন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)