ফোনে হাসি মুখে কথা বলছেন বারাসত-১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির-সহ সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল ওরফে বাবলু মাস্টার। সামনে বান্ডিল বান্ডিল নোট। তৃণমূল নেতার এই ভাইরাল ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময় অনলাইন’। তবে ভোটমুখী বঙ্গে তৃণমূল নেতার সামনে টাকার পাহাড় থাকার এই ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। সরব বিরোধীরা। যদিও গিয়াসউদ্দিন ঘনিষ্ঠদের দাবি, ‘ও দাদার ব্যবসার টাকা।’
সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে গিয়াসউদ্দিন একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। সামনের টেবিলে রাখা থোক থোক টাকা। পাশের চেয়ারে আরও একজন বসে রয়েছেন। তিনিও ব্যস্ত মোবাইলে। ওই ঘরে আরও একজন রয়েছেন। তিনি কিছুটা দূরে বসে। পাশাপাশি ঘরে ছিলেন আরও একজন, যিনি ওই ভিডিয়ো রেকর্ড করছেন এবং বারান্দায় গিয়ে কাউকে উপরের ঘরে আসার রাস্তা বলে দিচ্ছেন। পঞ্চায়েত সমিতির-সহ সভাপতি সামনের টেবিলে রাখা ওই বিপুল পরিমাণ টাকা কার? গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল ওই ঘরে কী করছিলেন? ভিডিয়োটি ঘিরে উঠছে এই সমস্ত প্রশ্ন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্রের অভিযোগ, ‘গিয়াসউদ্দিন মণ্ডল একজন জমি মাফিয়া। এ ভাবে তৃণমূল নেতারা পশ্চিমবঙ্গকে লুট করছে। তৃণমূল নেতারা এখন সমতলে থাকতে পছন্দ করছেন না। তাঁরা টাকার পাহাড়ে থাকতে পছন্দ করছেন।’ ঘটনায় উপযুক্ত তদন্তের আবেদন করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, এই ভিডিয়োটি প্রসঙ্গে জানার জন্য গিয়াসউদ্দিন মণ্ডলকে ফোনে যোগাযোগ করে ‘এই সময় অনলাইন’। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি। তার আগে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না। যদিও বারাসত-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হালিমা বিবি বলেন, ‘গিয়াসউদ্দিন-সহ সভাপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে জমি কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। তা পার্টনারশিপের ব্যবসা ছিল। যে ছবি ভাইরাল হয়েছে, তা ২০২২ সালের। ছবিটি পুরোনো বলেই জানিয়েছেন গিয়াসউদ্দিন।’