• পণের দাবিতে গলায় ফাঁস দিয়ে বধূকে খুন
    বর্তমান | ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কালিয়াচক: ভালোবেসে বাড়ির অমতে বিয়ে। আড়াই বছরের মাথায় পণের দাবিতে গৃহবধূর গলায় ফাঁস দিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায়। শনিবার গভীর রাতে বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত চকবাহাদুরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত গৃহবধূর নাম যুথিকা মণ্ডল (২১) । তাঁর বাবার বাড়ি বৈষ্ণবনগর থানারই মির্জাচক চাঁইপাড়ায়।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক‌ই স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় থেকে চকবাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ মণ্ডলের সঙ্গে যুথিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি পরিবার। পাত্র দেখা শুরু হলে যুথিকা স্পষ্টভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের তরফে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দেওয়া হলেও যুথিকা ও সৌরভ সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। অবশেষে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে বাড়ি থেকে পালিয়ে মন্দিরে বিয়ে করেন দু’জন।

    কিছুদিন পর যুথিকার বাড়ির লোকজন এই বিয়ে মেনে নেওয়ার পর দুই পরিবারের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই পণ ও জমি লিখে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তি শুরু হয়।

    মৃতার মা পারুল মণ্ডলের অভিযোগ, আমাদের কাছে রাস্তার পাশে থাকা দুই কাঠা জমি লিখে নিতে চেয়েছিল সৌরভ। আমরা রাজি না হওয়ায় মেয়ের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হত। এমনকি প্রায় শারীরিক নির্যাতন করত জামাই। ভয়ে আমাদের কাছে কিছু বলতে পারত না যুথিকা।

    পরিবারের দাবি, শনিবার রাতে যুথিকাকে পরিকল্পিতভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। যুথিকার জামাইবাবু কুড়ান মণ্ডল বলেন, প্রথমে ফোন করে বলা হয় যুথিকা অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলেছিল। তাদের কথা শুনে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে দেখি যুথিকা অচেতন অবস্থায় রয়েছে। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, সে আর বেঁচে নেই।

    কুড়ানের আরও দাবি, যুথিকার শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় লম্বা দাগ স্পষ্ট। গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় সৌরভ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বৈষ্ণবনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আইসি বিপ্লব হালদার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    সৌরভের এক আত্মীয় খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, যুথিকা আত্মহত্যা করেছেন। তবে, প্রতিবেশী কল্পনা মণ্ডলের বক্তব্য, কিছুদিন ধরে যুথিকার ওপর অত্যাচারের মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। প্রায়ই মারধর করা হত তাঁকে।

    ঘটনার পর থেকে সৌরভ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। • শোকাহত বধূর পরিবার। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)