• মমতার জন্মদিনে শুভেচ্ছা মোদীর
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রধানমন্ত্রী নিজের এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।’ প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    সরকারি নথি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৫ জানুয়ারি। সোমবার সেই হিসেবেই একাত্তরে পা রাখলেন তিনি। বয়সের অঙ্ক বাড়লেও রাজনীতির ময়দানে তাঁর সক্রিয়তা এতটুকু কমেনি। রাজ্য থেকে জাতীয় স্তর— মিছিল, সভা, আন্দোলন সর্বত্রই এখনও তিনি অন্যতম প্রধান মুখ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হাঁটতে হাঁটতে বহু যুব নেতাকেও যে তিনি ছাপিয়ে যান, তা বিরোধীরাও স্বীকার করে নিয়েছেন।

    তবে জন্মদিন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের বক্তব্য বরাবরই আলাদা। তাঁর লেখা বই ‘একান্তে’-র ৮৪ নম্বর পাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই উল্লেখ করেছেন, মা’র কথানুযায়ী দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন সন্ধিপুজোর সময় তাঁর জন্ম। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘তিন দিন ধরে নাকি একটানা প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি জন্মানোর পরেই নাকি সেই বৃষ্টি থেমে যায়।’ সরকারি তারিখ ৫ জানুয়ারি হলেও, এই কাহিনী তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

    জন্মদিন মানেই বিশ্রাম— এই ধারণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কখনওই খাটে না। এ দিনও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সোমবার দুপুরেই তিনি গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে যাচ্ছেন। সেখানে মুড়িগঙ্গার উপর নতুন সেতুর শিলান্যাস করারও কথা রয়েছে। জন্মদিনেও কাজের মধ্যেই নিজেকে ডুবিয়ে রাখছেন বাংলার ‘অগ্নিকন্যা’।

    আগামী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে তৃণমূলের অন্দরমহল। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আবারও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের শাসনক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন। তবে সরকারিভাবে উল্লিখিত জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)