• আজ রামপুরহাটে অভিষেকের সভা, রাজ্যবাসীর মঙ্গলকামনায় যাবেন তারাপীঠ মন্দিরে
    বর্তমান | ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আজ, মঙ্গলবার বীরভূমে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর একটায় তাঁর জনসভা রামপুরহাটের বিনোদপুরের মাঠে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের এই সভার শ্লোগান, ‘আবার জিতবে বাংলা’। স্পষ্টতই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই সভার আয়োজন। সোমবার সারাদিন ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলেছে সভার শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। সভা ঘিরে রামপুরহাট সহ জেলাজুড়ে মানুষের উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। সভার আগে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ও প্রশাসনিক কর্তারা। 

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের জনসভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলের নেতাকর্মীদের কাছে। নির্বাচনে বিরোধীদের মোকাবিলা করার পথ বাতলে দেবেন তিনি। সভার জন্য সুবিশাল মঞ্চ ও তার সামনে ২০০ ফুট বাই ১৫০ ফুটের র‍্যাম্প তৈরি হয়েছে। বক্তব্য চলাকালীন সহজেই যাতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে পৌঁছতে পারেন সেজন্যই এই র‌্যাম্প বলে জানিয়েছেন আশিসবাবু। সভায় প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ হাজির করানোর উদ্যোগ নিয়েছে দল। আজ বেলা ১২টার পর হেলিকপ্টারে চড়ে তিনি আসবেন তারাপীঠের চিলা মাঠে। সেখান থেকে তারাপীঠ মন্দিরে গিয়ে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় পুজো দেবেন। সেখান থেকে সড়ক পথে রামপুরহাট মেডিকেলে আসবেন বাংলাদেশে পুশব্যাক হওয়া সোনালি বিবি ও তাঁর নবজাতককে শুভকামনা জানাতে। তারপর তিনি হাজির হবেন সভামঞ্চে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে, প্রবেশ পথে লকিং ব্রিক বসানোর পাশাপাশি স্টিলের রেলিং দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। মেডিকেল থেকে সভাস্থল পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দু’ ধার বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হচ্ছে। তারাপীঠ থেকে তাঁর সভাস্থলের যাত্রাপথের দু’ ধার ফ্লেক্স ও দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। টিআরডিএর উদ্যোগে গোটা তারাপীঠকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা দফায় দফায় মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে যান। 

    এদিন চিলা মাঠে হেলিকপ্টারের ট্রায়াল থাকলেও সেটি নীচে নামেনি। মাঠের উপরে ঘুরেই চলে যায়। দুপুরে মাঠের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে যান আশিসবাবু ও কাজল শেখ। আশিসবাবু বলেন, প্রস্তুতি প্রায় শেষ। জাতীয় সড়ক সহ বিভিন্ন জায়গা বাঁশ দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ সভায় আসবেন। এই সভা নিয়ে সকল স্তরের কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে। কাজল শেখ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হবেন বীরভূম জেলার মানুষ। এই জেলার ১১টি আসনেই জোড়াফুল ফুটবে। বিরোধীরা সরষে ফুল দেখবে। এদিকে যেহেতু জাতীয় সড়ক লাগোয়া মাঠে জনসভা হচ্ছে। তাই আজ সকাল থেকেই টানা ছয় ঘণ্টা সড়কে যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, আজ সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হবে রামপুরহাট ও তারাপীঠকে। তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন থাকবে। সেই সঙ্গে নলহাটির নাকপুর চেকপোস্ট ও তেজহাটি টোল গেট, রামপুরহাটের ঝনঝনিয়া মোড়, মল্লাপুরের তেলডা ব্রিজ, মহম্মদবাজারের গণপুর ঝরেস্ট বাস স্টপ, সদাইপুরের মুরামাঠ, দুবরাজপুরের দরবেশ মোড়, নিরাময় হাসপাতাল মোড় এবং ইলামবাজারের উত্তরকোনা মোড়ে ভারী যানবাহন আটকে দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে সভা সফল করতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। 

     সভামঞ্চ পরিদর্শনে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও সভাধিপতি কাজল শেখ। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)