• এসআইআর আতঙ্কে স্ট্রোকে প্রাণ গেল প্রৌঢ়ের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মলিন রায় পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন। তিনি হলদিবাড়ি এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকায় তাঁকে চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় শুনানির জন্য ডাকা হয়। সেই অনুযায়ী গত ৩১ ডিসেম্বর নির্দিষ্ট কেন্দ্রে হাজির হয়ে তিনি আধার কার্ড, কাস্ট সার্টিফিকেট-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন।

    পরিবারের দাবি, শুনানির সময় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, বাড়ি ফেরার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মৃতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে নাগরিক অধিকার হারানোর আশঙ্কা থেকেই মলিন রায় চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন, ‘নাম কেটে গেলে কী হবে?’ এই উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে দাবি পরিবারের।

    মঙ্গলবার ভোররাতে হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার। এরপর চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের কারণেই মৃত্যু হয়েছে মলিন রায়ের।

    বাবার মৃত্যু প্রসঙ্গে তাঁর ছেলে বাসুদেব রায় বলেন, ‘বাবা কোনোদিন এমন অসুস্থ ছিলেন না। এসআইআর-এর নোটিস পাওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। শুনানির পরেও তাঁর ভয় কাটেনি। আমরা মনে করি এই আতঙ্কই বাবার মৃত্যুর কারণ।’

    ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত সচেতনতা ও আশ্বাস না দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা ভয় তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের পুরোনো ভোটার তালিকায় নাম নিয়ে জটিলতা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেশি।

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসআইআর শুনানি ঘিরে মানসিক চাপ, অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাগুলিকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় রাখতেই এই প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে এবং এতে ভয়ের কোনও কারণ নেই।

    তবে কোচবিহারের এই মৃত্যু ফের এসআইআর প্রক্রিয়া ও তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)