• মাঝ আকাশেই ব্রেন হেমারেজ, আতঙ্কে হুলস্থুল! ২৭৬ যাত্রী নিয়ে ফ্রাঙ্কফুর্টগামী বিমান হুড়মুড়িয়ে কলকাতায়...
    ২৪ ঘন্টা | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সৌমেন ভট্টাচার্য:  ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়গামী ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান মঙ্গলবার ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ফ্লাইটের ভেতরে থাকা একজন জার্মান নাগরিক হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ভিয়েতনামের হ্যানয় যাচ্ছিলো ফ্লাইট VN -36 নম্বরের একটি বিমান। বিমানের মধ্যে এক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তড়িঘড়ি কলকাতা বিমানবন্দরে চিকিৎসা জনিত কারণে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।

    ভোর ৩:৩২ মিনিট নাগাদ কলকাতা এয়ারপোর্টে ২৭৬ জন যাত্রী নিয়ে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানটি ভিয়েতনামের হ্যানয় যাচ্ছিল। জার্মান নাগরিক ম্যানফ্রেড বিউলার (৪৯) ব্রেন হেমারেজ হয়েছিল মনে করা হচ্ছে।  

    যাত্রার প্রায় আট ঘণ্টা অতিক্রম করার পর, যখন বিমানটি মাঝ আকাশে ছিল, তখনই এই অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা (Medical Emergency) দেখা দেয়। ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত পেরিয়ে গিয়েছে।

    যাত্রীর শারীরিক অবস্থা ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা বিমানের ১১এফ (11F) নম্বর আসনে বসা একজন পুরুষ জার্মান যাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থবোধ করতে শুরু করেন।

    প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্রু সদস্যদের মতে, তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটছিল এবং তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে কেবিন ক্রুরা তৎক্ষণাৎ বিমানের জরুরি রেসপন্স প্রোটোকল অনুসরণ করেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি অন-বোর্ড যেটুকু চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল, তা দিয়েই সহায়তার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিমানকর্মীদের প্রাথমিক সেবা সত্ত্বেও ওই যাত্রীর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি।

    কলকাতায় ডাইভারশন বিমানের ভেতরে ওই যাত্রীর অবস্থা ক্রমশ আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে ফ্লাইট ক্রুরা ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাঝ আকাশে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা তার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত। তাই তারা দ্রুত নিকটস্থ উপযুক্ত বিমানবন্দর হিসেবে ভারতের কলকাতার সাথে যোগাযোগ করেন। পেশাদার চিকিৎসা সহায়তার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিমানটিকে ডাইভার্ট করে কলকাতায় অবতরণ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিমানটি কলকাতায় অবতরণ করার সাথে সাথেই ভারতে নিযুক্ত ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তারা আগে থেকেই গ্রাউন্ড সার্ভিস ইউনিট এবং স্থানীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে রেখেছিলেন। বিমানটি রানওয়ে স্পর্শ করার পরপরই বিমানবন্দরের মেডিকেল টিম প্রস্তুত ছিল। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই জার্মান যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তিনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অধীনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে পারেন।

    তাকে কলকাতা বিমানবন্দর লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এখনও তিনি চিকিৎসাধীন। অসুস্থ যাত্রীকে নামিয়ে কলকাতা থেকে আবার হ্যানয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিমানটি। প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পর, ফ্লাইট VN36 স্থানীয় সময় ৭ জানুয়ারি ভোর ৫:৩০ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পুনরায় পাড়ি দেয়। পরিশেষে বিমানটি তার মূল গন্তব্য হ্যানয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করে।

    বিমান কর্তৃপক্ষের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার ফলে একজন বিদেশি পর্যটকের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)