• সুকান্ত ‘স্টপেজ মন্ত্রী’, কটাক্ষ অভিষেকের, ছয়ে ছয় করার লক্ষ্য বেঁধে দিলেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে
    বর্তমান | ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: একজন বিজেপির দখলে থাকা বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা, অন্যজন বিজেপির প্রাক্তন বুথ সভাপতি। প্রাক্তন বুথ সভাপতি বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ ভিনরাজ্যের জেলে থাকলেও অভিযোগ, তাঁদের সাহায্য করেননি বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাই তাঁকে এবার প্রাক্তন করার ডাক দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, বাংলা ভাষায় কথা বলায় যদি বাংলাদেশি বলে দেগে জেল খাটানো হয়, তাহলে সুকান্তও বাংলাদেশি। নিজের এলাকার মানুষের পাশে থাকেন না, বাংলার মানুষের ভালো করবেন কীভাবে?

    বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরামের লক্ষ্মীপুরে ভিনরাজ্যে জেল খাটা পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে এসে এভাবেই বিজেপি সাংসদকে একের পর এক আক্রমণ করলেন অভিষেক। ঘটনাচক্রে তাঁর সঙ্গে ছিলেন এলাকার বিজেপি নেতা পুলক চক্রবর্তী। যদিও বিজেপির দাবি, পুলক এককালে তাদের সমর্থক ছিলেন। এখন আর নন।

    কীভাবে সুকান্ত ও বিজেপি নেতৃত্বের কাছে সাহায্য চেয়েও ওই দুই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারকে হতাশ হতে হয়েছে, সেকথা বারবার উঠে আসে অভিষেকের মুখে। তাঁর তীক্ষ্ণ আক্রমণ, মহারাষ্ট্রে বাংলা ভাষায় কথা বলায় জেলে আটকে রাখা হয়েছিল সুকান্তর কেন্দ্রের দুই পরিযায়ী শ্রমিককে। তার মধ্যে একজন বিজেপির প্রাক্তন বুথ সভাপতি। তাঁর স্ত্রী সুকান্তর কাছে সাহায্য চাইলেও তিনি করেননি। আমরাই দু’জনকে উদ্ধার করেছি। 

    এরপরেই সুকান্তর উদ্দেশ্যে অভিষেকের প্রশ্ন, আপনার দায়িত্ব ও কর্তব্য নেই? আপনি তো পারতেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনও সাংসদকে ফোন করে দু’জনকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলতে। দলের প্রাক্তন বুথ সভাপতি বলে কোনও সাহায্য করলেন না! এই অহংকারের কারণেই সুকান্ত প্রাক্তন হবেন।

    এছাড়াও সুকান্তর দিকে ধেয়ে আসে একের পর এক কটাক্ষ। ‘দিল্লি থেকে জেলার জন্য কত টাকা এনেছেন? কী কাজ করেছেন? শুধুমাত্র রেলের স্টপ দিয়েছেন। আপনি কি স্টপেজ মন্ত্রী?’

    বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্র সুকান্তর গড় বলেই পরিচিত। সেখান থেকেই এদিন অভিষেক জেলায় ছ’টি বিধানসভা আসন দখলের লক্ষ্য ঠিক করে দেন দলকে। বলেন, জেলায় সব আসন জয়ের লক্ষ্যেই লড়ব। সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরব ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে লোকসভায় বিজেপি জিতেছে এখানে। কিন্তু জেলার মানুষ কী পেয়েছেন?  

    এদিকে অভিষেক জেলায় আসার আগেই সুকান্ত গঙ্গারামপুরের পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বর্মনের স্ত্রীর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সেখানে সুকান্ত লেখেন, সস্তা স্টান্টবাজি এবং লাগাতার মিথ্যাচার প্রচার চালানো হচ্ছে। গৌতমের স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি সমস্যার বিষয়ে আমাকে জানিয়েছিলেন। তিনি একবারও উল্লেখ করেননি, ন্যূনতম সাহায্যের আশ্বাস না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যেতে হয়েছিল। সেই সময় সাহায্য করার বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলাম। ওই দু’জনের কেউ বিজেপির বুথ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন না। 

    বুধবার বালুরঘাট এয়ারপোর্টে নেমে সেখানে এসআইআর আতঙ্কে মৃত কুমারগঞ্জের বাসিন্দা ওছমান মোল্লার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক। পরে পতিরামের  লক্ষ্মীপুরের পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকারের বাড়িতে আসেন। সেখানেই ডেকে নেওয়া হয়েছিল গঙ্গারামপুরের পরিযায়ী শ্রমিক গৌতম বর্মন ও তাঁর স্ত্রীকে। ওই পরিবারগুলিকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)