নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে পড়ুয়াদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা! ডিআই অফিসের গেটে বিক্ষোভ এসএফআইয়ের
বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে জলপাইগুড়ির বাহাদুর মুন্ন্যাস হ্যাপি হোম হাইস্কুলের পড়ুয়াদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা! এনিয়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের একাংশের অভিভাবকরা। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তাঁরা। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের সাফাই, ভর্তি ফি হিসেবে সরকার নির্ধারিত ২৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাড়তি ২৬০ টাকা সরস্বতী পুজো, স্কুলের ম্যাগাজিন ও বিদ্যালয় সাফসুতরো রাখার জন্য সংগ্রহ করছে ছাত্র সংসদ।
এর আগে জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি হাইস্কুলের বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে সাড়ে চারশো টাকা করে ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেয়, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীর বেতন দিতে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৯০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। বাকিটা নেওয়া হচ্ছে সরস্বতীপুজো ও স্কুলের পরিচয়পত্র তৈরির জন্য। যদিও স্কুলের অশিক্ষক কর্মীর বেতন দিতে পড়ুয়াদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) সুজিত সরকার। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি। তারপরও এনিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
এরইমধ্যে জলপাইগুড়ির বাহাদুর পঞ্চায়েতের অধীন মুন্ন্যাস হ্যাপি হোম স্কুলের বিরুদ্ধে নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে পাঁচশো টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। টাকার পরিমাণ কমানো না হলে ১৩ জানুয়ারি স্কুলে বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
একাধিক স্কুল সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে, এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি শহরের পিডব্লুডি মোড়ে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (মাধ্যমিক) অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই। নতুন ক্লাসে ভর্তির নামে স্কুলগুড়ির বাড়তি টাকা নেওয়া বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুমকি দেয়। পাশাপাশি সরকারি স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফেরানো, বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন সহ বিভিন্ন দাবিতে এদিন ডিআইকে স্মারকলিপি জমা দেয় এসএফআই।
বাড়তি ভর্তি ফি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জলপাইগুড়ির বাহাদুর মুন্ন্যাস হ্যাপি হোম হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিক তনয় দাস বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত ভর্তি ফি ২৪০ টাকার বাইরে এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না। কিন্তু আমাদের স্কুলে ছাত্র সংসদ রয়েছে। তারা সরস্বতী পুজো, ম্যাগাজিন এবং স্কুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি দেখভাল করে। এসবের জন্য ২৬০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অভিভাবকদের অবশ্য অভিযোগ, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েরা মূলত এই স্কুলে পড়াশোনা করে। এক একটি পরিবারে একাধিক ছাত্রছাত্রী রয়েছে। ফলে নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য পাঁচশো টাকা করে তাঁদের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ২০১১ সাল থেকে আমাদের বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে কলা বিভাগ চললেও আমরা কোনও শিক্ষক পাইনি। ফলে দু’জন আংশিক সময়ের শিক্ষক রাখতে হয়েছে। স্কুলের তহবিল থেকেই তাঁদের সাম্মানিক দিতে হয়। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক দিয়েই চালাতে হচ্ছে বাকিটা।