• মুর্শিদাবাদের আস্তাবল মাঠের পাশের শিশু উদ্যানের বেহাল দশা, হতাশা
    বর্তমান | ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, লালবাগ: রাজ্য সরকারের গ্রিনসিটি প্রকল্পে ২০১৯ সালে মুর্শিদাবাদ শহরের ঐতিহাসিক আস্তাবল মাঠের পাশেই গড়ে উঠেছিল শিশু উদ্যান। কচিকাঁচাদের মনোরঞ্জনের জন্য তাতে রাখা হয়েছিল মেরি-গো-রাউন্ড, দোলনা সহ একাধিক সরঞ্জাম। বিকেল হলেই লালবাগ শহর এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার খুদেরা অভিভাবকদের হাত ধরে এসে হাজির হতো পার্কে। পার্কজুড়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের চিৎকার, চেঁচামেচি, ছোটাছুটিতে সরগরম হয়ে উঠত এলাকা। কিন্তু, যথার্থ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে পার্কটি চরম বেহাল হয়ে পড়েছে। শিশুদের বিনোদনের সমস্ত উপকরণ ভেঙে গিয়েছে। ফলে সেগুলি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পার্কজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। লোহার রেলিংয়ের একাংশ উধাও হয়ে গিয়েছে। ফলে ওই পার্ক থেকে মুখ ফিরিয়েছে কচিকাঁচা ও অভিভাবকরা। শহরবাসীর একাংশের দাবি, রাত হলেই পার্ক নেশারুদের দখলে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে নেশার আসর। পার্ককে নতুন করে সাজিয়ে তুলে শিশুদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক, চাইছেন শহরবাসী।

    মুর্শিদাবাদ পুরসভার চেয়ারম্যান ইন্দ্রজিৎ ধর বলেন, মুর্শিদাবাদ শহরকে ধীরে ধীরে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। পার্কটিকেও সাজিয়ে তোলা হবে।

    সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদ শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ঐতিহাসিক আস্তাবল মাঠ। নবাবি আমলে এই মাঠে ঘোড়াদৌড়, সৈন্যদের কুচকাওয়াজ হত। ফলে নবাবি ইতিহাসের অন্যতম স্মারক এই মাঠ। কিন্তু, দীর্ঘ অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক আস্তাবল মাঠ তার গৌরব হারাতে বসেছিল। কাজেই আস্তাবল মাঠকে রক্ষা করে তার গৌরব ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয় বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের গ্রিনসিটি প্রকল্পে ২০১৯ সালে আস্তাবল মাঠের সৌন্দর্যায়ন হয়। সেই সঙ্গে মাঠের একটা অংশে শিশু উদ্যান গড়ে তোলা হয়। মোট খরচ হয় ৩৬ লক্ষ টাকা। শহরের বাসিন্দা তন্ময় মণ্ডল বলেন, বিকেল হলেই পার্কে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা হাজির হত। কিন্তু, অযত্নে ও অবহেলায় পার্কটি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। শিশুদের বিনোদনের একটি উপকরণও ভালো নেই। অপর বাসিন্দা মধুশ্রী মালাকার বলেন, বিকেল হলেই শিশুরা পার্কে খেলাধুলো করে কিছুটা সময় কাটাতে পারত। এখন আর সেই সুযোগটা নেই। শহরের শিশুদের জন্য পার্কটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পুরসভা উদ্যোগ নিক। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)