• বাংলায় কথা কেন? উত্তরপ্রদেশের সহকর্মীদের হাতে ‘খুন’ মুম্বইয়ের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক
    প্রতিদিন | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • শাহজাদ হোসেন, ফরাক্কা: পরিচয় সকলের এক ? পরিযায়ী শ্রমিক। তফাৎ শুধু রাজ্যের নামে। আর সেখানে বাংলা বনাম উত্তরপ্রদেশের লড়াইয়ে প্রাণ গেল মুর্শিদাবাদের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের। বাংলা কথা বলার উত্তরপ্রদেশের সহকর্মীদের হাতে ‘খুন’ হতে হল বছর তিরিশের রিন্টু শেখকে। মুর্শিদাবাদের রানিতলার আমডহরা গ্রামের বাড়িতে এই খবর পৌঁছতেই হাহাকার পড়ে যায়। খবর পেয়ে রানিতলা থানার পুলিশ মহারাষ্ট্রে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, ওই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্বামীকে এভাবে হারিয়ে নাবালক সন্তানকে নিয়ে আতান্তরে পড়েছেন রিন্টু শেখের স্ত্রী।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আমডহরা পঞ্চায়েত এলাকার হাজিগঞ্জে বাসিন্দা রিন্টু শেখ বেশ কয়েক বছর ধরে মুম্বইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। কয়েকমাস সেখানে কাজ করার পর তিনি মাঝেমধ্যেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। সাতমাস আগে রিন্টু শেষবার মুর্শিদাবাদে এসেছিলেন। তারপর থেকে নবি মুম্বইয়ের উলবে থানা এলাকার সেক্টর ২৪-এর কাছে একটি বহুতল নির্মাণের কাজ করছিলেন। সেখানেই শুক্রবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে তাঁর বচসা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, রিন্টু বাংলায় কথা বলায় তার বিরোধিতা করেন সহকর্মীরা। সেখান থেকে বচসা এবং রিন্টুর মাথায় লোহার রড দিয়ে মেরে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।

    মৃত যুবকের দাদা জুম্মাত আলি বলেন, “কয়েক বছর ধরে রিন্টু মহারাষ্ট্রে বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করে। ৭ মাস আগে নবি মুম্বইতে একটি নির্মাণস্থলে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করার জন্য গিয়েছিল। যে বহুতল নির্মাণের সঙ্গে রিন্টু জড়িত ছিল সেখানেই আরও কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে রাতে ঘুমাতো। কয়েক বছর আগে বাবা মারা গিয়েছেন। বাড়িতে রয়েছে মা, দুই ছোট ভাই, স্ত্রী এবং এক নাবালক সন্তান। সকলের জন্য অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থা করতেই তাঁকে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতে হয়েছে। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য নির্মাণস্থলে কর্মরত অন্য কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে শুক্রবার রাতে রিন্টুর ঝামেলা হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। যাদের সঙ্গে রিন্টুর ঝামেলা হয়েছিল তারা মূলত উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এরপর রাতের বেলায় তারাই রিন্টুক নির্মাণস্থলের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত লোহার যন্ত্র দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছে।” স্ত্রী বেবি খাতুন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে কীভাবে এবার সংসার চালাব, আমি জানি না।”

    শনিবার সকালে পরিবারের কাছে রিন্টুর মৃত্যুসংবাদ পৌঁছয়। এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে মুম্বই পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়েছে। রিন্টু যে সংস্থার হয়ে কাজ করত, তারা দেহ ময়নাতদন্ত করে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে বারবার পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা অত্যাচারিত হচ্ছেন। কখনও তাঁদের মারধর করা হচ্ছে, কখনও তাদের জল-বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত প্রায় ১১০০ পরিযায়ী শ্রমিকের উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য অত্যাচার করা হয়েছে। গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্যে মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার জন্য তারা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সঙ্গে প্রতিশোধমূলক আচরণ করছে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)