• সাইবার প্রতারণায় নাম জড়াল নিহত সার্জেন্ট বাপি সেনের ছেলের, চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: প্রতি বছর বর্ষবরণের রাতে উৎসবে মেতে ওঠার আগে আজও বহু মানুষের মনে পড়ে এক পুলিশকর্মীর নাম। সার্জেন্ট বাপি সেন। এক তরুণীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে সহকর্মীদের হাতে প্রাণ খুইয়েছিলেন তিনি। সেই নিহত সার্জেন্ট বাপি সেনের ছেলেকেই সাইবার প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করল দিল্লি পুলিশ। শনিবার পর্ণশ্রীর পুলিশ আবাসনের কোয়ার্টার থেকে শঙ্খার্ঘ্য সেন নামে ওই যুবককে আটক করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল। রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় পর্ণশ্রী থানায়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চলে জিজ্ঞাসাবাদ। সূত্রের খবর, তাঁর কথায় বহু অসঙ্গতি পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

    দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি সহ উত্তর ভারতজুড়ে একের পর এক সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে নেমে শঙ্খার্ঘ্যর নাম ও অ্যাকাউন্টের হদিশ পায় দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা। দেখা যায়, সাইবার প্রতারণার একটা বড় অঙ্কের টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সাইবার জালিয়াতি গ্যাংয়ের সঙ্গে শঙ্খার্ঘ্যর যোগাযোগের প্রমাণ হাতে আসতেই জাল গোটানো শুরু করে পুলিশ। রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধেই এদিন রাতে দিল্লি পুলিশের টিম পর্ণশ্রীতে হানা দেয়। তবে তিনি শুধুমাত্র মোটা কমিশনের বিনিময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভাড়ায় দিয়েছিলেন, নাকি প্রতারকদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে, সাইবার জালিয়াতি মামলায় নিহত সার্জেন্ট বাপি সেনের ছেলের আটকের খবরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার পুলিশ মহলে।

    কে এই বাপি সেন? ২০০২ সালে বর্ষবরণের রাতে কলকাতার ওয়েলিংটন এলাকার নির্মলচন্দ্র স্ট্রিটে বাইক আরোহী তরুণীর সম্মান বাঁচাতে গিয়ে প্রহৃত হয়েছিলেন কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট বাপি সেন। মদ্যপ অবস্থায় থাকা কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের পাঁচ কনস্টেবল তাঁকে ট্রাম লাইনের উপরে ফেলে নির্মমভাবে মারধর করেছিল। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর চোট পেয়েছিলেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বাপি সেনকে প্রথমে কলকাতা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। পরে একবালপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোমায় চলে যান। শেষ পর্যন্ত সাত দিনের লড়াই শেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। তরুণীর সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে নিজের বাহিনীর হাতে তাঁর এই নিষ্ঠুর খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল কলকাতার রাজপথ। পথে নেমেছিল নাগরিক সমাজ। একাধিক শিল্পীর প্রতিবাদী গানে উঠে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার সুজয় চক্রবর্তীর নির্দেশে বৌবাজার থানায় খুনের মামলা দায়ের হয়েছিল। তদন্তে নেমেছিল কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা। আদালতে পাঁচ পুলিশ কর্মী দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। ২০১০ সালে কলকাতা হাইকোর্টও দোষী পুলিশ কর্মীদের সাজা বহাল রাখে। ‌স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাপি সেনের দুই ছেলে। শঙ্খার্ঘ্য ছোটো। তাঁর স্ত্রী সোমা সেনও কলকাতা পুলিশের কর্মী। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরা শেষ হলে এদিন রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। আজ, রবিবার দুপুরে আলিপুর আদালতে তুলে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যেতে চান তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)