ম্যানগ্রোভ কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ
বর্তমান | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: সুন্দরবনে মৈপীঠে ঠাকুরান নদীর চরে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কাটার অভিযোগ উঠেছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগ আজও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগীয় আধিকারিক নিশা গোস্বামী বলেন, নতুন করে আর গাছ কাটার খবর আসেনি। তবে আগের ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। আমরা নজরও রাখছি। পাশাপাশি, ওই এলাকাতেই সেচদপ্তরেরও জায়গা দখল করে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপারেও প্রশাসন নীরব থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসীরা। তবে এ প্রসঙ্গেও সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখব আমরা।
মৈপীঠ এক পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে ঘাটের পশ্চিম দিকে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার পাশেই বাদাবন। তা একেবারে ঠাকুরান নদীর চর ঘেঁষে চলে গিয়েছে। এই বাদাবনে নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, গাছ পুরোপুরি উপড়ে ফেলা হয়েছে। ঘন ম্যানগ্রোভ আর অবশিষ্ট নেই। এই ঠাকুরান নদীতে নিয়মিত চলছে বনবিভাগের বোট। তবুও সেই নজরদারির ফাঁক দিয়ে কীভাবে ম্যানগ্রোভ কাটা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, শাসকদলের দাপুটে এক নেতার সঙ্গে বনবিভাগের যোগসাজশেই ম্যানগ্রোভ কাটা হয়েছে। কিন্ত কারা কাটল, এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপও করা হয়নি। ম্যানগ্রোভ কেটে জমি পরিষ্কার করে প্লট করে তা বিক্রির পরিকল্পনা চলছে। ওই বাসিন্দারা আরও বলেন, ম্যানগ্রোভ কেটে নেওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদীর জল উপচে গ্রামে ঢুকতেই পারে। এদিকে কারও নজর নেই। এছাড়া নদীর ঘাটের পশ্চিম দিকে রাস্তার পাশেই সেচদপ্তরের জায়গা। সেই জায়গায় নির্মাণ কাজ চলছে। বাসিন্দারা বলেন, কেউ এই কাজের প্রতিবাদ করতে গেলেই হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রশাসন খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিক। কাটা হয়েছে ম্যানগ্রোভ।-নিজস্ব চিত্র